
মোঃ মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ) থেকেঃ-
অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতা দমাতে পারেনি অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী রিপা খাতুনকে। সীমিত সামর্থ্যের পরিবারে বেড়ে ওঠা রিপা এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন, ভবিষ্যতে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন বিচারক হওয়া।
রিপা খাতুন এ বছর মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। তাঁর পরীক্ষার মোট নম্বর ১০৫৯। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন রিপা। এসএসসি ও এইচএসসি—দুই পরীক্ষাতেই সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের প্রমাণ দিয়েছেন রিপা।
রিপার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মাত্র ৫ শতক জমির ওপর ছোট্ট বসতঘরে তাঁদের বসবাস। তাঁর বাবা একজন দিনমজুর ও কৃষক। নিজেদের সামান্য জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা-মাকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তবে দারিদ্র্যকে কখনো নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি রিপা। ভালো ফলাফলের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন সে। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা তাঁর এগিয়ে চলার পথকে আরও সহজ করেছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলেই আজ এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন তিনি।
রিপা খাতুন জানান, ভবিষ্যতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে বিচারক হতে চান তিনি। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর স্বপ্ন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে আশাবাদী।
রিপার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দিত। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন তার প্রত্যাশা, সব প্রতিকূলতা জয় করে উচ্চশিক্ষার পথে আরও এগিয়ে যাবেন রিপা এবং একদিন তাঁর বিচারক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
একান্ত সাক্ষাৎকারে রিপা জানায় সে আর্থিক সংকটের মধ্যে তাকে লেখাপড়া করতে হয়েছে।দুই ভাই বোনের সংসারে অল্প আয়ের মধ্যে পিতা মাতার সংসার চালাতে কষ্ট হয়।তাদের বাড়ি উপজেলার ভালাইপুর গ্রামে।বাবা আব্দুর রশিদ কৃষক মা ফাতিমা খাতুন গৃহীনি।