
এম রাসেল সরকার- অনুসন্ধানী প্রতিবেদক:
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক ও নৈতিক ভাবমূর্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছিল পরিচালনা পর্ষদের সাবেক দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে মুশতাক আহমেদ জালিয়াতি, শিক্ষক-অভিভাবক হয়রানি এবং নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের পথ স্থায়ীভাবে রুদ্ধ হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, খন্দকার মুশতাক আহমেদ কোনো প্রকার অনুদান বা ডোনেশন প্রদান না করেই নিজের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নাম দাতা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটির দাতা ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৪২ জন। কিন্তু ২০২৫ সালে অভিভাবকদের তীব্র দাবির মুখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হলে দেখা যায়, বৈধ দাতা ভোটারের সংখ্যা মাত্র ৪৫ জন। অর্থাৎ, মুশতাক আহমেদ ও তার ঘনিষ্ঠ ৯৭ জন সদস্যই ছিলেন 'ভূয়া ভোটার'। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা এই বিশাল ভোটার ব্যাংক ব্যবহার করে তিনি পরিচালনা পর্ষদে নিজের প্রভাব বিস্তার করে রাখতেন।
মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের নামে সাধারণ অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বহু অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভর্তির আশায় সর্বস্ব হারিয়ে আজ নিঃস্ব। একইসাথে, প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষকদের ওপরও নানাভাবে মানসিক ও পেশাগত নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
তদন্ত অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুশতাক আহমেদ বহু শিক্ষার্থী ও ছাত্রীকে নির্মম নির্যাতনের শিকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে লম্পটতা, নারী লিপ্সা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগ রয়েছে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতাকে চরমভাবে কলঙ্কিত করেছে। এই অপকর্মের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।
মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ এবং অনিয়মের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। আদালতের পক্ষ থেকে খন্দকার মুশতাক আহমেদকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (প্রধান শাখা, মুগদা শাখা ও বনশ্রী শাখা) ত্রিসীমানার মধ্যে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে তিনি তার জীবদ্দশায় আর কখনোই প্রতিষ্ঠানটির কোনো চত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ভূয়া ভোটার তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করা এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থী-শিক্ষকের জীবন বিপর্যস্ত করার পেছনে যারা কুশীলব হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন ছাত্র সমাজ। আইডিয়াল স্কুলের দীর্ঘদিনের সুনাম পুনরুদ্ধারে এই জালিয়াতি চক্রের সমূলে বিনাশ চান তারা।
খন্দকার মুশতাক আহমেদের এই পতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপরাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন এমন 'মুশতাক'দের জন্ম না হয়। চলবে.!
বিস্তারিত আছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।