
চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি (আহমদ রেজা) :
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরের রান্নার চুলায় বসানো গরম পানিতে ঝলসে হামিম বিন হোসেন (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর শনিবার (২ মে) ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হামিম উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেনের একমাত্র ছেলে। সম্প্রতি তারা বারশত ইউনিয়নের কবিরের দোকান এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিন সন্তানের মধ্যে হামিম ছিল সবার ছোট।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রান্নাঘরে অসাবধানতাবশত চুলায় বসানো গরম পানি শিশুটির শরীরে পড়ে যায়। এতে তার শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। প্রথমে তাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
নিহতের পরিবার জানান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানে হামিম। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার বাবা মোহাম্মদ হোসেন পরদিনই সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে মরদেহ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আনার পথে রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ও ভূমিকা
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও ঘরের ভেতর শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে খোলা আগুন, গরম পানি বা ফুটন্ত তরল শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি। অসাবধানতার সামান্য মুহূর্তও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে রান্নাঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট উন্নত নয়। শিশুদের নাগালের মধ্যে গরম পানি বা চুলা থাকা এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া, রান্নার সময় শিশুদের দূরে রাখা এবং নিরাপদ রান্নাঘর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।