
সাগর উখিয়া–টেকনাফ, কক্সবাজার।
বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছে। সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নানা ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিপদের সময় আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি এ দেশের আইন ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে মানবিকতার কারণে; স্থানীয় মানুষের বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে চুরি-ডাকাতি, অপহরণসহ কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ যেন না ওঠে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
বিশেষ করে স্থানীয় শিশু ও তরুণদের অপহরণ করে পরে পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করার মতো অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অপরাধে জড়িতদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সবাইকে অপরাধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কোনো ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
“আমরা আশ্রয়ের বিরুদ্ধে নই, আমরা অপরাধের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ মানবিকতার জায়গা থেকে আশ্রয় দিয়েছে। সেই মানবিকতার মর্যাদা রক্ষা করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি নয়; বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং উখিয়া–টেকনাফের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।
লেখক: মোঃ জাহেদ আলম (সাগর)
টেকনাফ সরকার ডিগ্রি কলেজ ছাত্র