কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ-এর ইত্তেবা স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বইমেলা, পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস এবং আনন্দের ছন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ আব্দুল জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শামছুল হুদা নাঈম, উপদেষ্টা মোঃ সেলিম জাবেদ এবং সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এইচ.টি পপুলার স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইউনিটি আইডিয়াল স্কুল-এর পরিচালক সায়েম আহমেদ, কিশোরগঞ্জ জেলা ফার্মেসী এসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এবং আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়-এর সিনিয়র শিক্ষক জুয়েল স্যারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শিক্ষায় সৃজনশীলতার ছোঁয়া
বইমেলায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টল তৈরি করে সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক বই প্রদর্শন করেন। গল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিক্ষামূলক বইয়ের সমাহারে স্টলগুলো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। বক্তারা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে বইমেলা শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিঠা উৎসব: ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয়
পিঠা উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় করানো হয়। ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি ও পায়েসসহ বিভিন্ন দেশীয় পিঠার স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের আনন্দ বৃদ্ধি করে।
সাংস্কৃতিক পর্ব
দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, গান, কবিতা আবৃত্তি, বেলুন ফোটানো ও বস্তা দৌড়ের মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মন জয় করে। অভিভাবকরা সন্তানের অংশগ্রহণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি
ইত্তেবা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন এডিসি (শিক্ষা) গোলাম মোহাম্মদ ভূইয়া বিদ্যালয়টিকে ডিজিটাল স্কুল হিসেবে উদ্বোধন করেন, যা বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। আয়োজকরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও স্কুলটি আরও বড় পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
দিনব্যাপী আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।