
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
ঈদের পরদিন বিকাল ৪টার পর কামালিয়াচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুফিয়া মান্নান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ফুটবল টুর্নামেন্ট সিজন-১” স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৪টার পর খেলা শুরু হলে ধীরে ধীরে মাঠে জড়ো হতে থাকেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। উৎসুক দর্শকদের উপস্থিতিতে মাঠ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি খেলাটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে কামালিয়াচর বদুরন্ত স্পোর্টিং ক্লাবের দুটি দল—লাল দল ও সবুজ দল। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কৌশলী পাসিং, আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ এবং গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা। পুরো ম্যাচজুড়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও লড়াকু মানসিকতা দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি আক্রমণ আর প্রতিরোধে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকদের মাঝে উচ্ছ্বাস ও করতালির ধ্বনি শোনা যায়।
খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়ানুরাগীরা। অনুষ্ঠানে সুফিয়া মান্নান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন সুমন এবং পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাবুল উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিন্নাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ ইব্রাহিম মোল্লা, যিনি খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে সুস্থ ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
খেলাটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জ রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোঃ বিল্লাল হোসেন। তার নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত ও দক্ষ পরিচালনায় পুরো ম্যাচটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার মোঃ আনোয়ার পাশার প্রাণবন্ত ধারাভাষ্য খেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে, যা দর্শকদের মাঝে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান সুফিয়া মান্নান ফাউন্ডেশন জানায়, ঈদের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করা এবং স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করাই এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তারা ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বরং এটি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা, পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব মিলিয়ে ঈদের আমেজে এমন একটি ক্রীড়া আয়োজন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অংশগ্রহণকারী ও দর্শক—সবার কাছেই এটি হয়ে উঠেছে এক স্মরণীয়