
ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ সুন্দরবন বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুদিন ধরে চলা বিরতিহীন মাঝারি ও ভারি বর্ষণে উপকূলীয় জনপদে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর ও পশুর নদী, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বন্দরের হারবাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে বন্দরের হাড়বাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে সার, কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে সার ও খাদ্যবাহী জাহাজের কাজ। পণ্য ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে কার্গো বা লাইটার জাহাজে পণ্য লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম থমকে যাচ্ছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন দুবলার চরের আশপাশে, কানাইনগর ও জয়মনি এলাকার জেলেরা জানান, সাগর উত্তাল থাকায় এবং ভারি বৃষ্টির কারণে তারা নদীতে জাল ফেলতে পারছেন না। বনের ওপর নির্ভরশীল গোলপাতা আহরণকারী বাওয়ালি ও মৌয়ালদের কাজও স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ দিকে টানা বৃষ্টিতে মোংলা পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলগুলোতে কিছুটা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় রাস্তাঘাটে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজের সন্ধানে বের হতে না পেরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সাগর উত্তল, তাই বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উপকূলের চিংড়ি ঘেরগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মৎস্য চাষিরা। এ ছাড়া সুন্দরবনসংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, মোংলা বন্দরের হরবাড়িয়ায় সার, কয়লা ও ক্লিংকারসহ বেশ কয়েকটি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। বৃষ্টি এবং আবহাওয়া ভালো হলে বন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে চলবে।