
স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই কিশোরের মধ্যে বিরোধের জেরে এক কিশোর নিহত হয়েছে। নিহত ও অভিযুক্ত সম্পর্কে খালাতো ভাই হওয়ার পাশাপাশি তারা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের পাশাপাশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সাতারপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব আলমের ছেলে সীমান্ত (১৫) কয়েকদিন আগে অভিযোগ করেন, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি একই গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে অপু (১৪) চুরি করেছে। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সালিশকারীরা অপুকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।
তবে সালিশের সিদ্ধান্তের পরও দুই কিশোরের মধ্যে বিরোধের অবসান হয়নি। মোবাইল ফোনের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় তিন দিন ধরে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সাতারপুর বাজারের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সীমান্ত অপুকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আবারও তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হলে একপর্যায়ে সীমান্ত একটি ধারালো ছুরি দিয়ে অপুর বুকে আঘাত করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
গুরুতর আহত অপুকে দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত সীমান্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের মামা সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, "আমার ভাগিনা অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছিল। এমন নির্মম মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
বর্তমানে নিহতের স্বজনরা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় সাতারপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।