
কাঁঠালিয়া প্রতিনিধিঃ
ছাত্র-জনতার রক্তেভেজা অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট বিজয় অর্জিত হওয়ার মধ্য দিয়ে পটপরিবর্তনের পরও আঁতাতের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হচ্ছে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা। আওয়ামী ফ্যাসীবাদের অবসান হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দোসররা এখনো রয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। কোন কোন স্থানে অপরাধীদের শাস্তির আওতায়ও আনা হয়েছে।
কিন্তু কাঁঠালিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কমকর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সুবিধাভোগী নানান অপকর্ম করেও এখনো রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থেকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে তিনি নির্বাচন অংশগ্রহণ করে ভোট ডাকাতি করতেন,
চাকরিতে যোগদান করে জাহিদুল ইসলাম বসির উপ সহকারী কৃষি-কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই বেপরোয়া এই কর্মকর্তা, কৃষি প্রনোদনা তালিকা প্রস্তুত করনের ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মে জরিয়ে পরে। বিগত আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা কালে প্রকৃত কৃষকের তালিকা প্রনয়ন না করে সার ও বিজ প্রদান করেন আওয়ামীলীগ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে।কৃষক না হলে ও তালিকায় অনেক ভুয়া কৃষকের নাম দেখিয়ে সার ও বীজ উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন ।
নিজ এলাকায় সরকারি সার, বীজ ও উপকার ভোগীদের তালিকা করে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করতেন কর্মকর্তা। একই এলাকায় দীর্ঘ এক যুগের বেশি বছর কর্মরত থাকায় জড়িয়েছেন বিভিন্ন অন্যায়-অপকর্মে। সরকারি সার, বীজ ও প্রণোদনা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজে হয়েছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। সাবেক কর্মরত জায়গা জয়খালী গ্রামে। সরকারি বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সুবিধাপ্রাপ্তির তালিকায় নাম লেখাতে এক হাজার টাকা করে বসিরকে উৎকোচ দিতে হতো। এছাড়া সরকারি প্রদর্শনী যারা পেতেন তারাও বিশেষ বিবেচনায় তালিকা ভুক্ত হতেন।
প্রদর্শনীর প্রাপ্ত টাকা কৃষকদের প্রদান না করে নিজেদের ইচ্ছে মতো টাকা দিতেন বসির।
কৃষকরা বলেন , বসিরের স্ত্রী কৃষি অফিসের মাঠ কর্মী। ধান, সবজিসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য রোগাক্রান্ত হলে তাদের পরামর্শ নিতে গেলে তারা মাঠে যেতে রাজি হন না। তার স্ত্রীকে সরেজমিনে কৃষি ক্ষেতে নিয়ে যেতে কৃষকদের গাড়ি ভাড়া ও উৎকোচ হিসেবে নগদ হাজার খানেক টাকা দিতে হয়। কৃষকদের জন্য সরকারি কোনো সহায়তা আসলে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে নিজের নিকট আত্মীয় কারো নাম উপকার ভোগীদের তালিকায় দিতেন। এতে উপকারভোগীর কাছ থেকে ভাগাভাগি করে টাকা নিয়ে থাকেন।
বতর্মান ব্লক ১নং চেচিরি রামপুর ইউনিয়ন
জাহিদুল ইসলাম বসির আওয়ামী লীগের দোসর।
স্থানীয় কৃষক মোহম্মদ শাজাহন হাওলাদার দক্ষিন চেচরি গ্রামের বলেন, বসির ইচ্ছামতো সরকারি বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ তাদের নিজস্ব তালিকাভুক্ত মানুষদেরই বিতরণ করতেন। এতে বঞ্চিত করা হয়েছে প্রকৃত কৃষকদের। কৃষি জমি ও কৃষি কার্ড থাকার পরও বছরের পর বছর সরকারি সার, বীজসহ যাবতীয় প্রাপ্য হতে সাধারণ কৃষকগণ বঞ্চিত। বসির ভুয়া তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলার লোকজন দিয়ে সার, বীজ ছাড়িয়ে খোলা বাজারে লোকজন দিয়ে সিন্ডিকেটের নিকট বিক্রি করেন। এমন ঘটনা অহরহ ঘটেছে।
রফিকুল হাওলাদার বলেন, ঘুষ না খেলে ও দুর্নীতি না করলে এত টাকা তারা কোথায় পাবেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে নিজ উপজেলায় কর্মরত আছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি ভান্ডারিয়া যেতে চাই, জেলা স্যার বদলী করে না।
কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, লেখিত অভিযোগ এখনো আমি পায়নি। পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্তা নেও হবে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, অভিযোগ পেলে। বিধি মোতাবেক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।