
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওর বেষ্টিত ও দুর্গম উপজেলা নাসিরনগর। ইতিহাসের পাতায় নাসিরনগর নামটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সময়ের ধারাবাহিকতায় কালের করাল গ্রাসে এ এলাকার ঐতিহ্য, অহংকার ক্রমশ জীর্ণ-শীর্ণ, বিস্মৃত হচ্ছে। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা নাসিরনগর বহু পীর- আউলিয়া,দরবেশ, সাধক আর জ্ঞানী-গুণীর জন্মস্থান।
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই জমিদার বাড়িটি শুধু একটি পুরানো ভবন নয়,এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের এক অনন্য প্রতীক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নে অবস্থিত জমিদার বঙ্কবিহারী রায়ের বাড়ি (বড় বাড়ি) নামে পরিচিত।
ব্রিটিশ শাসনামলের একটি চমৎকার ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। বাড়িটি প্রাচীন বাংলার জমিদারী প্রথা, আভিজাত্য এবং তৎকালীন স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।
চাতলপাড়ের বঙ্গবিহারির বাড়ির ইতিহাসের কোন নির্দিষ্ট বিবরণ
পাওয়া যায়নি। তবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের এলাকা। এই অঞ্চলটি অতীতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। চাতলপাড়ে বাবু কুমুদ রায়, বাবু যোগেশ চন্দ্র রায় ও বাবু গোবিন্দ চন্দ্র রায়দের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও জমিদারদের বসতি ছিল। চাতলপাড়ের ঐতিহ্যের সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে জমিদার বঙ্কবিহারী রায় এই অঞ্চলে জমিদারি পরিচালনা করতেন। চাতলপাড় এলাকার আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার জমিদার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
সুবিশাল এই ভবনটিতে ব্রিটিশ আমলের নান্দনিক কারুকার্য ও নির্মাণশৈলী ফুটে ওঠে। বাড়িটির বিশাল আকার ও নির্মাণ কাঠামো তৎকালীন সময়ের আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে।
বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়িটি কিছুটা জরাজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায় হলেও, ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।