
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসন এবং সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অপরাধে জড়িতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
রবিবার (৩ মে ২০২৬) বিকেলে বত্রিশ মনিপুর ঘাট মসজিদ মাঠে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক বক্তব্য এবং দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেল থেকেই মাঠে সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। পুরো আয়োজন ঘিরে ছিল সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মাজহারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল আলম শরিফ এবং কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম ভূইয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি জিএস শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নিশাত ও সাধারণ সম্পাদক নওশাদ, বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলু, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জীবন চন্দ্র দাশ, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজুয়ান আহম্মেদ, যুবদল নেতা আমান উল্লাহ আমান, সমাজসেবক ফরিদ আহম্মেদ এবং শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসায় জড়িতদের প্রতি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি বলেও মত দেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, অনেকেই ভুল পথে জড়িয়ে পড়লেও তারা চাইলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। সেই সুযোগ তৈরি করতেই জেলা পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগ। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, কর্মসংস্থান ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অবৈধ দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অস্ত্র জমা দিতে আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকেই অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে এবং একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে উঠবে।
স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা ও পুনর্বাসনভিত্তিক উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জীবন চন্দ্র দাশ। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী সচেতনতা জোরদার এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।