কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ এম এন জাকারিয়া খাঁন
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর এবং তার পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আজাহার আলীর মেয়ে মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা সোমা সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার মোঃ আব্দুল বারিক তশিলদারের ছেলে মোঃ শাহাদত হোসেন সোহাগ ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের সময় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমহর ধার্য করা হয় এবং কনের পরিবার ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদান করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিবাহের ৫/৬ মাস পর স্বামীর চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর আরও ১০ লাখ টাকা ও পিতার বাড়ির জমি দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা ও জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে স্বামী সোহাগ বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এছাড়া গলা চেপে ধরে নাক-মুখ ও মাথায় কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে তার পিতা আজাহার আলীকে বিষয়টি জানান। তিনি ছোট মেয়ে ছামিহা খাতুন (৮)-কে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযোগ অনুযায়ী সোহাগ হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে আজাহার আলীর মাথায় কোপ মারেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। ছোট বোন ছামিহা খাতুন বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় মোঃ শাহাদত হোসেন সোহাগ, মোছাঃ ছাহেরা বেগম ও মোঃ আব্দুল বারিক তশিলদারের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।