
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সৃষ্টি হলো এক অনন্য ইতিহাস। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় হেফজুল কুরআন বিভাগে সারা বাংলাদেশের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন হাফেজা মোছাঃ সাদিয়া খাতুন। এই অভাবনীয় সাফল্য উদযাপনে কোটচাঁদপুরের খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদরাসার তিন কৃতি শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে রাজকীয় সংবর্ধনা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে বলুহর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদরাসা প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকারী সাদিয়া খাতুন ছাড়াও ৫ম শ্রেণিতে ৪৬তম মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া হাফেজা সানজিদা খাতুন এবং ৮ম শ্রেণিতে ১১৪তম স্থান অর্জনকারী হাফেজা জান্নাতুল ফেরদৌসী সেজদিকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মাদরাসার সার্বিক পরিচালনায় থাকা হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
"সাদিয়া কেবল আমাদের মাদরাসার নয়, বরং গোটা ঝিনাইদহ তথা বাংলাদেশের গর্ব। এই সাফল্য মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমরা ছাত্রীদের কেবল মুখস্থ করানো নয়, বরং শুদ্ধ উচ্চারণ ও মননশীলতার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সাদিয়ার এই প্রথম স্থান অধিকার প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিচর্যা পেলে আমাদের মফস্বলের মেয়েরাও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেন, "আমাদের কোটচাঁদপুরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন মেয়ে সারা বাংলাদেশে প্রথম হয়েছে, এটি আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এই মাদরাসাটি আমাদের এলাকার আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই এই কৃতি শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বড় হোক এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিক।"
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে এবং হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা মোসলেম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি ছাত্রীদের উৎসাহিত করেন মুফতি ফিরোজ গাজী, মুফতি উবায়দুল্লাহ আল মাসুদ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন খাঁন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সাদিয়ার এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও দশের সেবায় আরও যোগ্য হাফেজা তৈরি করতে তারা নিরলস কাজ করে যাবেন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।