
কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ই.সি.নং-৫৬৩,সলেমানপুর ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি দখল, আত্মসাৎ, তছরূফ, পুকুরের মাটি বিক্রি, বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুর ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দায়ের করেন ওয়াকফ এস্টেটের ওয়ারিশ ও স্বত্বভোগী মোঃ পারভেজ রানা বাবু।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, সালমানপুর ওয়াকফ এস্টেটের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বাদীর দাবি, আসামিরা ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব ক্ষমতায় সলেমানপুর ওয়াকফ এস্টেটের পুকুর থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দেয় এবং পরবর্তীতে আরো প্রায় ২ কোটি টাকার পুকুরের মাটি কেটে বিক্রি করেছে। এ নিয়ে বাদী প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উক্ত এস্টেটের মোতওয়াল্লী নজরুল হাসান বাবুয়াসহ অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে বাদীর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং ঘরের তালা ভেঙে নগদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা, বাদি ও তার বোনের একাডেমিক সকল শিক্ষাবর্ষের মূল সার্টিফিকেট ও তাদের নামীয় ব্যাংকের চেকবই, জমির মূল দলিল,ষ্টীলের আলমারি,ড্রেসিংটেবিল, অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বাদির ও তার বোনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। আসামিরা বাদির ও ওয়াকফ এস্টেটের প্রয়োজনীয় অনেক মূল্যবান কাগজপত্র (দলিলপত্র,ম্যাপ ইত্যাদি) পোশাক-পরিচ্ছদ আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় বাদীকে মারধর করা হয় এবং আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ও পরিচয় মামলায় বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
আসামী করা হয়েছে মৃত আব্দুল মান্নান এর সন্তান মোতওয়াল্লী নজরুল হাসান বাবুয়া, শায়লা নাহিদ মুনিয়া (আলী রেজার স্ত্রী), সাব্বির রেজা কবির মিঠু, তরিকুল ইসলাম, মন্জুরা আজিম।
নজরুল হাসান বাবুয়ার ছেলে জোহেব হাসান প্রমিত, আলী রেজার সন্তান আলভী, সাব্বির রেজা কবির মিঠু এর সন্তান সামি ও মাহজাবিন বিনতে কবির, মাহতাব মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস আলী।
ঘটনার তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২২ মার্চ ২০২৬ (ঈদুল ফিতরের পরের দিন রবিবার), সময় আনুমানিক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট।
এ বিষয়ে আদালতের নিকট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন বাদী। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলা করার পর মোতওয়াল্লী নজরুল হাসান বাবুয়া এবং বাদির আপন খালা শাহানারা খাতুন ও তার ছেলে মোঃ সৈয়দ আলফাজ হোসেন ফাহিমসহ অন্যান্য আসামিরা পুনরায় বাদির অনুপস্থিতে বাদির বসত বাড়ীর সকল তালা ভেঙে বাদির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায় ও অন্যান্য অনেক জিনিসপত্র আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বাড়ীর মেইন গেটসহ সকল জায়গায় তালা লাগিয়ে দেয়।
মোতওয়াল্লী নজরুল হাসান বাবুয়াসহ অন্যান্য আসামিরা বিভিন্ন ভাবে উক্ত এস্টেটের ওয়ারিশ ও স্বত্বভোগী মোঃ পারভেজ রানা বাবুকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং দফায় দফায় বাড়ীতে হামলা চালাচ্ছে।
পারভেজ রানা বাবু বিভিন্ন মহলে নিরাপত্তার জন্য দারে দারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বাবুয়া বলেন মোতাওয়াল্লী হিসেবে বাড়ির মালিক আমি।