1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
April 22, 2026, 11:27 am
শিরোনামঃ
গাইবান্ধার উপজেলায় সাঘাটায় ৭৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ১ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ, জেলাজুড়ে উচ্ছ্বাস এবং নতুন প্রত্যাশা কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের দায়িত্বে নতুন এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নেত্রকোনায় নির্বাচন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোনা পৌরসভায় মানবিক ও নিরহংকার মনের মানুষ পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে অচেতন কে এই তরুণী আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ইতালির ৫লক্ষ টাকার নোট বাংলাদেশে কোনো ব্যাংক গ্রহণ করছে না বললেন, ভুক্তভোগী ওয়ারেছ চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্সের বড় সাফল্য বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ৮ লক্ষাধিক টাকাসহ আটক ২
ব্রেকিং নিউজঃ
গাইবান্ধার উপজেলায় সাঘাটায় ৭৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ১ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ, জেলাজুড়ে উচ্ছ্বাস এবং নতুন প্রত্যাশা কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের দায়িত্বে নতুন এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নেত্রকোনায় নির্বাচন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোনা পৌরসভায় মানবিক ও নিরহংকার মনের মানুষ পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে অচেতন কে এই তরুণী আমতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ইতালির ৫লক্ষ টাকার নোট বাংলাদেশে কোনো ব্যাংক গ্রহণ করছে না বললেন, ভুক্তভোগী ওয়ারেছ চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্সের বড় সাফল্য বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ৮ লক্ষাধিক টাকাসহ আটক ২

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার ৭০-৮০ শতাংশ কমবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

  • Update Time : Wednesday, April 22, 2026

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার: চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা চলতি বছর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেয়র বলেন, গত বছর খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এ বছর সংশ্লিষ্ট সকল সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, নগরীতে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন এবং অসংখ্য খাল রয়েছে, যা নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছে চসিক।

এছাড়া চসিকসহ বর্তমানে চারটি সংস্থা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং সময়মতো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।
সভায় সিডিএ’র চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাস্তবায়িত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পন্ন করেছে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মেয়রের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় চলতি বছরই জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে—প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত—কমে আসবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল খনন কার্যক্রমের মধ্যে অধিকাংশের কাজ শেষ হলেও হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কিছু অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ভ্রাম্যমাণ হকারদের যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপকে অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মেয়র বলেন যে, নালা ও খালগুলো পরিষ্কার করার পরও এই হকারদের কারণেই সেগুলো বারবার ময়লায় ভরে যাচ্ছে । তিনি উল্লেখ করেন যে, নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড এবং চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হকাররা ফলমূলের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি রাস্তায় বা নালায় ফেলছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেয়র চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর (সিএমপি) সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাস্তার শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান। কাউকে হাতেনাতে ময়লা ফেলতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশ দেন ।

এছাড়া রাস্তার পাশে বালি, ইট ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
এসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদ পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাস্তা ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
পাহাড় ক্ষয় ও মাটি ধসে খাল ভরাট হওয়াকে আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মেয়র বলেন, এ বিষয়ে প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন। পাহাড় কাটার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, কোনো নাগরিক যেন দুর্ঘটনার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় নালা ও খালের পাশে যেখানে সুরক্ষা দেয়াল নেই, সেখানে অস্থায়ী হলেও নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে মেয়র বলেন, দক্ষিণ হালিশহর, বন্দরটিলা ও নয়ারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় স্লুইস গেট নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। বর্ষার আগে কাজ সম্পন্ন না হলে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে জনগণ ভোগান্তির শিকার না হয়।
পলিথিন দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু পলিথিন নিষিদ্ধ করলেই হবে না, এর বাস্তবসম্মত ও সহজলভ্য বিকল্প নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে বিকল্প পণ্য না থাকলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পাটজাত ব্যাগসহ পরিবেশবান্ধব বিকল্প উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মেয়র আরও বলেন, পলিথিনের কারণে নগরীর খাল-নালা ও ড্রেন দ্রুত ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে, ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে বলেন বর্ষার আগে প্রতিটি এলাকায় ভাঙা বা অনুপস্থিত স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনার তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বড় নালা ও খালের পাশে যেখানে সুরক্ষা দেয়াল নেই, সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বাঁশ বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে। মেয়র নিজেও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা খাল থেকে পিডিবি, কর্ণফুলী গ্যাস ও ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির স্থাপিত পিলার, দেয়াল, পাইপ অপসারণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন এবং নবনির্মিত রাস্তা না কেটে চসিকের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য ওয়াসা’র প্রতিনিধিকে অনুরোধ জানান।
এসময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহসিনুল হক, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, পিডিবি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম মামুনুল বাশরি, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, চসিকের স্পেশাল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, বারইপাড়া খাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd