
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ‘ট্যাগ দিয়ে আটক আবু হোসেন মোঃ নাছিম মণ্ডল (৩০) টানা দুই মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এ সময়ের মধ্যেই ১৫ দিন আগে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার স্ত্রী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এখনো নবজাতক মেয়ের মুখ দেখা হয়নি বাবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
বর্তমানে স্ত্রী তিন সন্তান—দুই ছেলে ও নবজাতক কন্যাকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের দেখভালের মতো কার্যত কেউ নেই বলেও অভিযোগ স্বজনদের।
গেল বছরের গত ২৭ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের পোস্ট অফিস সংলগ্ন বাসা থেকে নাছিমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন রবিবার তাকে গাইবান্ধা আদালতে পাঠানো হয়।
আটক নাছিম সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কাজিবাড়ি সন্তোলা গ্রামের মৃত আবদুল মন্নাফ মণ্ডলের ছেলে।
তার বাবা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য।
বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকেই নাছিম গ্রাম ও শহরের বাসার মধ্যে যাতায়াত করে সংসার পরিচালনা করতেন। বাসার পাশেই একটি স’মিলের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন বলে পরিবার জানায়।
বাবার একমাত্র ছেলে নাছিমের তিন বোনের মধ্যে দুইজনের বিয়ে হয়েছে, ছোট বোন ম্যাসে থেকে কলেজে পড়াশোনা করছেন।
বড় বোনের স্বামী বিএনপির রাজনীতিতে এবং ছোট বোনের স্বামী ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও নাছিম নিজে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে পরিবারের দাবি।
নাছিমকে গ্রেফতারের ঘটনায় থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের অভিযোগ নাছিম স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন ব্যবসা, বাড়ি ও সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।
আটকের রাতে পুলিশ বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে ছাত্রলীগ নেতা চঞ্চল কে। নাছিম বোনের জামাই’ বললে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ দাবি করে নাছিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাদুল্লাপুর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কমিটির তালিকায় তার নাম রয়েছে।
একই সঙ্গে দুটি ছবি দেখানো হয়, যেখানে তাকে দলীয় কর্মসূচিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে দেখা যায় বলে দাবি পুলিশের।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে।
স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ভুয়া কমিটির কাগজ তৈরি করে নাছিমের নাম যুক্ত করে তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
বাস্তবে ২০১০ সালে শুধু উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষিত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
নাছিম তখন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন সে সময় তিনি ছাত্র ছিলেন এ বিষয়টিও প্রশ্ন হিসেবে তুলেছেন স্বজনরা।
নাছিমকে আটকের বিষয়ে সে সময় সাদুল্লাপুর থানার ওসি আব্দুল আলিম বলেন, 'কমিটির তালিকায় তার নাম রয়েছে। আটকের পর তাকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ট্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে
আর গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লা আল মামুন জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নাছিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বায়েজিদ বোস্তামি জিম বলেন নিরপরাধ কেউ গ্রেপ্তার হোক বা কারাগারে যাক তা আমি চাই না। পুলিশ কোন তথ্যের ভিত্তিতে নাছিমকে মামলায় যুক্ত করেছে তা আমার জানা নেই।
যদি তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকেন তাহলে আমার পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। আইনগতভাবে তার জামিন হোক—এটাই প্রত্যাশা।'
নাছিমের স্বজনদের দাবি ভুয়া ও সৃজনকৃত কমিটির কাগজ ব্যবহার করে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তাদের ভাষ্য 'নাছিম কখনো কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
নাছিমের স্ত্রী রুমা বেগম বলেন 'তিনটি ছোট সন্তানকে নিয়ে বাসায় থাকি
আমার সঙ্গে একজন বৃদ্ধা মা আছেন
দুই মাস ধরে আমার স্বামী কারাগারে
সে কখনো রাজনীতি করেনি কোনো মিছিলে যায়নি
তবুও তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে
একাই সিজারিয়ান অপারেশন করাতে হয়েছে জন্ম নেওয়া সন্তানের মুখও সে দেখতে পারেনি
তিনি জানান কারাগারে গিয়ে একবার দেখা করেছেন এবং সপ্তাহে একবার ফোনে কথা হয়। ও খুব কষ্টে আছে।
বারবার বলছে দ্রুত যেন জামিনের ব্যবস্থা করি। গাইবান্ধা আদালতে জামিন না মেলায় হাইকোর্টে আবেদন করেছি কিন্তু এক মাসেও শুনানি হয়নি বলেন তিনি।
নাছিমের বড় বোনের স্বামী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সুজা মিয়া বলেন 'নাছিম রাজনীতি না করলেও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।
পূর্বের কোনো বিরোধের জেরে তাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।
আমরা উচ্চ আদালতে জামিনের চেষ্টা করছি। চলতি সপ্তাহে জামিনের আশা করছি
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের দাবি
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে নাছিমের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা হোক