
আব্দুস সালাম,নীলফামারীপ্রতিনিধিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিষয়ে মতামত জানাতে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে ভোটারদের হাতে গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। প্রকৃত অর্থে যদি জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব চান, তবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভার আগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন সামনে রেখে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের বাধা মোকাবিলায় প্রস্তুত। সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এ দেশের জনগণ ও ভোটাররা।
তিনি আরও বলেন, ছয়টি সংস্কার কমিশন সরাসরি ভোটাধিকার, ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সচেতন ভূমিকাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণভোট একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ভোটারদের সঠিক তথ্য দিয়ে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে যেন সবাই নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সরকার আশ্বাস দিতে চায়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, গত ৫৩ বছর ধরে দেশের মানুষের একটি বড় অংশ নিজেকে বঞ্চিত মনে করেছে। তারা সুশাসনের অভাব অনুভব করেছে এবং মনে করেছে নেতারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করে না। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না, কঠোর পরিশ্রম করেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলে না এমন বোধ দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে কাজ করেছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু জাফর।
উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী এই গণভোট প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।