নিজস্ব প্রতিবেদক, জাজিরা (শরীয়তপুর)
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ৪ বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে। শুধু শিশু নয়, সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন ওই পরিবারের দুই নারীও। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ সিকদার জানান, গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে তার বসতভিটায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ইট ও বালু আনা হলে প্রতিপক্ষ দবির সিকদার ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, দবির সিকদার ও তার ভাইয়েরা নূর মোহাম্মদের স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে। মাকে বাঁচাতে নূর মোহাম্মদের বড় মেয়ে রুপালী এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এই নৃশংস দৃশ্য দেখে রুপালীর ৪ বছর বয়সী শিশু কন্যা রাফিয়া কান্নাকাটি করে এগিয়ে আসলে ক্ষিপ্ত হয়ে দবির সিকদার শিশুটিকে আছাড় মারে এবং এক পর্যায়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
হামলায় অভিযুক্তরা হলেন—দবির সিকদার, সুমন সিকদার (পিতা: হযরত আলী সিকদার), দেলোয়ার সিকদার, বিল্লাল সিকদার (উভয় পিতা: মৃত তৈয়ব আলী সিকদার), স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদের পৈতৃক জমি প্রায় ২০ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন দবির সিকদার গংরা।
এ নিয়ে ছয় মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক ও জমি পরিমাপ করা হয়। কাগজের সত্যতা পাওয়ায় সালিশরা নূর মোহাম্মদকে তার জমি বুঝিয়ে দেন। সেই জমিতেই ঘর নির্মাণ বা সীমানা দেওয়ার প্রস্তুতির সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সালিশদাররা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অবুঝ শিশুকে নির্যাতন ও নারীদের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আইনবহির্ভূত।”
ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদের অভিযোগ, হামলার পরপরই পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করেনি। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত দবির সিকদার গ্রেফতার এড়াতে এবং মামলা রুজু হতে বাধা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে থানায় তদবির চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) রুবেল মুঠোফোনে জানান, “অভিযোগটি আমাদের হাতে আছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা বা মামলা রুজু হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”