
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়ন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার তৎপরতা চলছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জাফরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব জাফরাবাদ, পশ্চিম জাফরাবাদ, মাঝিরকোণা, কাইকুরদিয়া, জাল্লাবাদ, সাধেরজঙ্গল, সাইটুটা ও বাদেশ্রীরামপুর এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কাদিরজঙ্গল ও নোয়াবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও মাদকসংক্রান্ত তৎপরতার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
নজরদারি বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের
এলাকাবাসীর দাবি, জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক কেনাবেচার সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য যাচাই এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।
প্রচলিত আইনে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে?
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রযোজ্য। এ আইনের অধীনে মাদকদ্রব্যের অবৈধ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে এবং কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, তা নির্ভর করে উদ্ধার করা মাদকের ধরন ও পরিমাণ, অভিযুক্তের ভূমিকা এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ওপর।
এ ছাড়া অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসারে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট ঘটনা ও প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা এলাকার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, মাদক প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগও জরুরি। এ ক্ষেত্রে পুলিশের নিয়মিত টহল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মমুখী উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
জাফরাবাদ ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য করিমগঞ্জ থানা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই জাফরাবাদসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।