
নিজস্ব প্রতিবেদক-মেহদী হাসান:
রাজধানীর জুরাইন রেলগেট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিক্সাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসিক ৫০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর এই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষ এক ধরনের 'টোকেন'।
স্থানীয় চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জুরাইন রেলগেট ও তৎসংলগ্ন এলাকা দিয়ে চলাচলকারী অটোরিক্সাগুলোর ওপর এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস গেলেই ৫’শ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে হয় একটি টোকেন। যারা এই টোকেন নিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের পড়তে হয় নানা হয়রানির মুখে। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি চলাচলেও বাধা দেয় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিএনজি চালক জানান, "সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করে যা আয় করি, তার বড় একটা অংশ চলে যায় মালিকের জমা আর এই টোকেন কিনতে। এই টাকা কার পকেটে যাচ্ছে আমরা জানি না, কিন্তু টাকা না দিলে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে দেওয়া হয় না।"
চালকদের এই বাড়তি ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। চালকরা জানান, চাঁদার টাকা তুলতে গিয়ে বাধ্য হয়েই অনেক সময় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে হয়। ফলে এই অঘোষিত চাঁদাবাজির চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
জুরাইন রেলগেট এলাকার এই প্রকাশ্য টোকেন বাণিজ্য এখন চালকদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী চালক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং চালকদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।