
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ ও মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দিদার এন্ড প্রিন্স ফিলিং স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ। ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিদর্শনের সময় ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখা হয়। ডিসপেন্সার মেশিনের ক্যালিব্রেশন ঠিক আছে কি না, মাপজোকের যন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করছে কি না এবং গ্রাহকদের নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয় সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত মাপের পাত্র ব্যবহার করে নমুনা জ্বালানি নিয়ে মিলিয়ে দেখা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক কিনা তা যাচাই করা হয়।
এ সময় সংরক্ষণ ট্যাংকের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপও পর্যবেক্ষণ করা হয়। স্টেশনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সচল আছে কি না, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাম্প কর্তৃপক্ষকে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জ্বালানির পরিমাপে কারচুপি, মানের ঘাটতি বা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন তদারকি অভিযান নিয়মিত পরিচালনার কথা জানান তিনি।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনিয়মের চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জেলা জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা ন্যায্য দামে সঠিক পরিমাণ ও মানসম্পন্ন জ্বালানি পান।
পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, অনিয়ম কমবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে।