
বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত এক বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ ৪,২০,০০০ (চার লক্ষ বিশ হাজার) পিস, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
জানা যায়, Border Guard Bangladesh-এর উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোররাতে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ব্যাটালিয়ন সদর এবং জীম্বংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অংশগ্রহণ করে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ সংলগ্ন এলাকায়, বিওপি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘সাকেরের ঘের’ নামক স্থানে অবস্থান নেয়। পরে আনুমানিক ৩টার দিকে মায়ানমার থেকে ৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা দ্রুত পার্শ্ববর্তী ঘেরের পানিতে নেমে সাঁতরে পুনরায় মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে স্কচটেপে মোড়ানো খাকী রঙের বায়ুরোধী ৪২টি প্যাকেট থেকে মোট ৪,২০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তবে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও অন্য কোনো অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা যায়নি। একইসঙ্গে পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হলেও রাতের অন্ধকারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানা-তে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সবসময় কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদকদ্রব্য দমন এবং অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।