কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাজহারুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ বর্তমানে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ।
তিনি বলেন, মশার বংশবিস্তার রোধে আমাদের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। বাসাবাড়ির ছাদ, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম কিংবা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নরসুন্দা নদীর সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য অপসারণ এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। তিনি জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে এবং ধীরে ধীরে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের সার্কেল অফিসার, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণের মাধ্যমে মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। বক্তারা সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সচেতন করা এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে, মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।