
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার শীর্ষ মাদককারবারিদের তালিকায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে পলাশ নামের এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিস্তৃত অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের শিবালয় এলাকায় পলাশের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে, যার অধিকাংশই দখলের মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল করেছেন তিনি; এমনকি আত্মীয়স্বজনরাও তার দখলদারিত্ব থেকে রেহাই পাননি।
পলাশের ঘনিষ্ঠ একজন চালক পারভেজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও দুটি ৯ এমএম রিভলভার উদ্ধার করা হয়। তবে পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি ছাড়া পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবেও পলাশের নাম উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে পালিয়ে যান বলেও জানা যায়।
বিদেশে অবস্থানকালে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে তিনি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে আসার পরও আইনি ঝামেলা থেকে মুক্তি পাননি তিনি।
২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মিরপুর এলাকায় তার একটি বাসায় অভিযান চালালে আগাম খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ সময় তার স্ত্রী শামীমা ইসলাম নিশি বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক সরিয়ে ফেলার কাজে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটে পলাশের অস্ত্র প্রদর্শন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক পরিকল্পনার কথোপকথন উঠে আসে, যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। কয়েকজন ভুক্তভোগী সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগও করেছেন।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, একসময় ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন পলাশ। তবে বিভিন্ন দলে ভিড়তে চাইলেও তিনি সফল হননি বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে এখনও দুটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে—একটি যাত্রাবাড়ী থানায় এবং অন্যটি গুলশান থানায়।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত আসামিকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।