"
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরা উপজেলায় দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতার পর আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস অবমুক্ত ও সংস্কার কার্যক্রমকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই উদ্যোগকে কেউ দেখছেন সাংগঠনিক পুনর্জাগরণ হিসেবে, আবার কারো কাছে এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক বিতর্কিত পদক্ষেপ।
রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে ঈদ-পরবর্তী সময়ে হাজিরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মনপুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসের সামনে এক আনন্দ র্যালি আয়োজন করেন। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন পর একত্রিত হওয়ার উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং দলীয় কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে হাজিরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৪ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন বলে জানা যায়। বিভিন্ন সময় তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে ছোট ছোট মিছিল, স্লোগান এবং দলীয় উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মনপুরা উপজেলায় তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে পুনরায় সক্রিয় করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলোর গণমুখী কার্যক্রম চালু থাকলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ে এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, আরেকটি অংশ এ উদ্যোগকে সমালোচনার চোখে দেখছে। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রকাশ্য কর্মসূচি বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পরিবর্তনের প্রভাব তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে শুরু করেছে, এবং বিভিন্ন এলাকায় নতুন নেতৃত্ব বা ‘হাত বদল’-এর মাধ্যমে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক অবস্থানের ওপর।
মনপুরার সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বর্তমান বাস্তবতায় এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সব মিলিয়ে, মনপুরায় আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস অবমুক্ত ও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত হওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি ভবিষ্যতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে, নাকি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে—তা সময়ই নির্ধারণ করবে।