
খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া)
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা সদর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পবিত্র ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাঃ উদযাপন উপলক্ষে জশনে জুলুস কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বন্ধে দাবি জানানো হয়।
এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় পুলিশ লাইনের ভিতরে তৌহিদি জনতার নামে ন্যাক্কারজনক তাণ্ডব চালানো হয়। নাসিরনগর, বিজয় নগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পবিত্র ঈদ এ মিলাদুন্নবী সাঃ উদযাপন করা থেকে লাঠি-সোঁটা হাতে নিয়ে বাঁধা দেয় মিছিল করে। একটি বিশ্ব স্বীকৃত আমার দেশের রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামকে বাঁধা দেয়ার দুঃসাহস দেখায় ?
এর আগেও দেশে নানা ঘটনা, মিছিল, সামাজিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৌহিদি জনতার নামটি বারবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে গত বছর ঢাকার গাজীপুরের মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা রইছ উদ্দিনকে মব জাস্টিস সৃষ্টি করে তাকে দিবালোকে পিটিয়ে হত্যাকরে এবং মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের সমর্থক ও একদল মানুষের সংঘর্ষ এবং গণমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে খবরের শিরোনাম হয়।
এ ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, এই ‘তৌহিদি জনতা’ আসলে কারা? তারা কি নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য বা সমর্থক? তারা কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়?
যারা নিজের হাতে আইন তুলে নেন, ম্যুরাল পুলিশিং করেন, মানুষকে কোন কিছু মানতে বাধ্য করেন, অন্যের ওপর বা কারও প্রতিষ্ঠানে হামলা করেন, তারা ইসলামের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যশীল মানুষ নয়। কারণ, ইসলাম অন্যের ওপর জুলুম করতে নিষেধ করেছে। কারও ওপর কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়াকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে।
৫ আগস্টের পর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশেই মব জাস্টিসের নমুনা দেখেছে দেশ ও জাতি। তৌহিদি জনতার নামে শত শত মাজার, দরগাহ, খানকাহ হামলা- ভাংচুর চালায়। কবর থেকে লাশ উঠিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করার মতো বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড।
কিছু লোক একত্রে জড়ো হয়ে একটি গুজব ছড়িয়ে, কোনো ব্যক্তির ওপর চড়াও হয়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে, কোন কোন ক্ষেত্রে মেরে ফেলে।
'তৌহিদি জনতা' তান্ডবলিলায় অতিষ্ঠ দেশ ও জাতি। এই তান্ডবতা থেকে মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ।