
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান-অনুদানের ধারা যেন দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে মসজিদটির তহবিলে বর্তমানে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা। শনিবার (২৭ জুন) সকালে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলার পর এ তথ্য জানান কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন।
দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মুসল্লিদের অনুদান গ্রহণ আরও সহজ করতে মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিরাপদে যেকোনো স্থান থেকে দান পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
শনিবার সকাল ৭টায় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়। বাক্সগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে ৪৩ বস্তা নগদ টাকা, যা অতীতের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ৫৯০ সদস্যের একটি দল গণনার কাজ শুরু করে।
টাকা গণনার কাজে অংশ নেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আনসার সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পৃথকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এবার ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হওয়ায় আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পাগলা মসজিদে মানত করে দান করলে তা কবুল হয়, এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে প্রচলিত। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিরা এখানে দান করে থাকেন। ফলে পাগলা মসজিদ আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ দানভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা।