
হুমায়ুন কবির | নিজস্ব প্রতিবেদক, নান্দাইল।
তারিখ:০৩ মে ২০২৬,
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র এ এফ এম আজিজুল ইসলাম পিকুলকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়ে মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ—সর্বত্রই এখন একটাই দাবি: ""জনতার মেয়র পিকুলের অব্যাহতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।""
রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক:-
আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে নেতা-কর্মীরা বলছেন, আজিজুল ইসলাম পিকুল কোনো সাময়িক নেতা নন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছরের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তিনি সম্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন। রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ৫৩টি রাজনৈতিক মামলা। বারবার জেল খাটাসহ রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
তৃণমূলের আর্তনাদ ও দাবি:-
নান্দাইল বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মতে, পিকুলের মতো একজন ত্যাগী নেতাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া মানে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
তাদের দাবিগুলো হলো:-
১/ অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার:- অবিলম্বে এই 'অযৌক্তিক' সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাকে স্বপদে ফিরিয়ে আনা।
২/ ত্যাগের মূল্যায়ন:- ৫৩টি মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের অবমূল্যায়ন না করা।
৩/ ঐক্য রক্ষা:- নান্দাইল বিএনপিকে শক্তিশালী রাখতে পিকুলের বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয় সমর্থকরা।
প্রধানমন্ত্রীর ও কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ:-
বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলছেন, এটি কেবল একটি দাবি নয়, বরং এটি ন্যায়ের আহ্বান। রাজপথের এই অদম্য প্রতীকের প্রতি নেওয়া সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য তারা বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা="নান্দাইলে বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষা এবং আন্দোলনকে বেগবান করতে আজিজুল ইসলাম পিকুলের মতো পরীক্ষিত ও সাহসী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।"