
হুমায়ুন কবির | বিশেষ প্রতিনিধি | নান্দাইল, ময়মনসিংহ।
মেধা আর দেশপ্রেমের আলোয় উজ্জ্বল এক সকাল দেখল ময়মনসিংহের নান্দাইল। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) সকালে স্থানীয় রাজ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে জমকালো “A+ সংবর্ধনা ২০২৬”।
“মেধা ও দেশপ্রেমে একসাথে গড়ি মানবিক নান্দাইল” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই উৎসবের আয়োজন করে সরকার নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘একসাথে গড়ি নান্দাইল ফাউন্ডেশন (এগনাফ)’। নান্দাইলের ইতিহাসে কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন সুবৃহৎ ও প্রাণবন্ত আয়োজন এই প্রথম দেখল স্থানীয়রা।
যেভাবে বরণ করা হলো মেধাবীদের—
পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার অনুষ্ঠানস্থলটি এদিন পরিণত হয়েছিল তারুণ্যের মিলনমেলায়। উত্তরীয় পরিয়ে ও গোলাপ ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট। সহপাঠী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে ছবি তোলার আনন্দে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা, যা পুরো অনুষ্ঠানকে এক উৎসবমুখর রূপ দেয়।
যাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর ছিল আয়োজন—
হাফেজ জুনায়েদ আহমেদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এগনাফ-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি লুৎফুর রহমান ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নান্দাইলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দ, ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টরবৃন্দ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা। কৃতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও বক্তব্য দেওয়া হয়, যেখানে উঠে আসে সাফল্যের পেছনের সংগ্রাম ও অনুভূতির কথা।
আগামীর দিনের রূপকারদের প্রতি বিশেষ বার্তা—
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
"জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়। মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর ব্যবহার থেকে দূরে থেকে মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আজকের আপনারাই আগামী দিনের নান্দাইলের ভবিষ্যৎ রূপকার।"
তিনি আরও জানান, সকল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে একটি আলোকিত, মানবিক ও শিক্ষায় অগ্রসর নান্দাইল গড়ে তোলাই এগনাফ-এর মূল লক্ষ্য। এই পথচলায় তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
শেষে আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও কৃতি শিক্ষার্থীদের দুপুরের প্রীতিভোজের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে দিনব্যাপী এই তারুণ্যদীপ্ত আয়োজনের।