
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেরার নাসিরনগর উপজেলার হবিগঞ্জ - সরাইল - নাসিরনগর আঞ্চলিক মহাসড়কে দুইটি ভাঙা ব্রীজ মেরামত না হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর
উপজেলার হবিগঞ্জ-নাসিরনগর-সরাইল আঞ্চলিক মহাসড়কে তিনটি সেতু আছে। এরই মধ্যে একটি সেতু নির্মাণাধীন।
বাকি দুইটি সেতুগুলোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক বাস, ট্রাক ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। এগুলোর বেশির ভাগ স্থানে রেলিং ও গার্ডার ভেঙে গেছে। দুটি সেতুর প্রায় এক ফুট দেবে গেছে। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
সেতুগুলো হলো– হবিগঞ্জ-নাসিরনগর-সরাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল বেণীপাড়া মহাখাল খালের ওপর নির্মিত সেতু, একই ইউনিয়নের শ্রীগর গ্রামের মেনদী আলীর বাড়িসংলগ্ন একটি সেতু।
দুর্ঘটনা এড়াতে বিকল্প হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি অস্থায়ী মিনি সেতু। তবে সেটির অবস্থাও ভালো নয়। ব্রীজের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে মূল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
বেণীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলেন, এই সেতু দিয়েই আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে। প্রতিদিন ই ভয় হয়, কখন না জানি সেতুটি ভেঙে পড়ে। ট্রাক, বাস সেতুর উপর উঠলে মনে হয় এখনই ধসে যাবে।
সিএনজি চালক কুদ্দুস মিয়া বলেন, যাত্রী নিয়ে সেতুর ওপর উঠতে ভয় লাগে। গর্তের কারণে চাকা আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বেণীপাড়ার মহাখালে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সেতুসহ আরও দুই সেতু ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেতুগুলোর গার্ডার সরে গিয়ে এক ফুটের মতো নিচে দেবে গেছে। ওই সময় এলজিইডি ও সওজের ছোট-বড় আরও ১০টি সেতু ও কালভার্ট পানিতে ভেসে যায়। তিন - চার বছর কেটে গেলেও সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সেতু সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সরেজমিন বেণীপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মহাখাল সেতুর মাঝখান থেকে মূল সংযোগস্থলে প্রায় এক ফুট সরে গেছে। ১২ থেকে ১৫ জায়গায় ফাটল ধরেছে। সেখানে দেওয়া হয়েছে জোড়াতালি। কয়েকটি রেলিংও ভেঙে গেছে। দুই দিকে গার্ডার সরে গিয়ে মৃত্যুকূপ তৈরি হয়েছে। অটোরিকশা উঠলেই দুলে উঠছে সেতুটি। এর পরও প্রতি মিনিটে ৮-১০টি পণ্য ও যাত্রীবাহী যান চলাচল করছে। এই অবস্থায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের অসহ্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। একই ইউনিয়নের মেনদী আলীর বাড়ি-সংলগ্ন সেতুটির ওপরের অংশও ভেঙে গেছে।
বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, ‘ঢাকাসহ সারাদেশের সঙ্গে হবিগঞ্জ জেলার যোগাযোগের আঞ্চলিক বিকল্প মহাসড়ক হলো এটি। কোনো কারণে সেতু ভেঙে পড়লে হবিগঞ্জ-নাসিরনগরের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করে সেতুটি সংস্কারের দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি, সেতুটি কোথায় তা আমি চিনি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব এম এ হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এখনই নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবো।