
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
সার বছরের সঞ্চিত অর্থ ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করে দিন শেষে বৈশাখ মাসে সোনালি ধান কেটে ঘরে তোলার কথা। মাঠজুড়ে ধান, আলু ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। কিন্তু মাঠে নেই কৃষকের ব্যস্ততা। ফসল প্রায় প্রস্তুত, অথচ ঘরে তোলার মানুষ নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে এখন এমনই এক অস্বাভাবিক বাস্তবতা। যেখানে মাঠ ভরা ফসল আছে, কিন্তু নেই কৃষক।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ মার্চ ২০২৬ খৃষ্টাব্দ পূর্ববিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা কাশেম ও রহিম তালুকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩ জন নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই গ্রামগুলো কার্যত পুরুষশূন্য। গ্রেফতার এড়াতে পুরুষরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে থমকে গেছে পুরো জনজীবন।
এই ঘটনার জেরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ৬টি গ্রামের কৃষিখাতে। গোয়ালনগর, সিমেরকান্দি, মাছমা, দক্ষিণদিয়া ও লালুয়ারটুক, নোয়াগাও, এই ৬ টি গ্রামে প্রায় ৪ হাজার পরিবারের বসবাস। প্রায় ৭ হাজার কৃষক আশপাশের চারটি হাওরে ১০ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে ধান পেকে গেছে, পুরো হাওর সোনালি হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি, সামনে কালবৈশাখীর ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কা। সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে উজানের ঢল ও শিলাবৃষ্টিতে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শুধু ধানই নয়, আলু, বেগুন, টমেটো, কুমড়া, মরিচ, বাদামসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলও জমিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষি কাজ করতে হচ্ছে নারীদের।
কৃষক আবু মিয়ার স্ত্রী হাজেরা খাতুন বলেন,‘স্বামী বাড়ি নাই। দুই বিঘা ধান, এক বিঘা আলু লাগাইছি। কিচ্ছুই তুলতে পারতাছিনা না। এই ফসলই আছিল আমাদের বাঁচার ভরসা।’
জাহানারা বেগম বলেন , ঘর-বাড়ীতে বেডা মানুষ(পুরুষ মানুষ) না থাকায় এবং সময় মতো আলু তুলতে না পেরে আলুর ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আমি ও আমার বোন মাঠে নামছি।’
বিলকিস বেগম বলেন, ‘আর এক সাপ্তাহ পর ধান কাটন লাগবো। পুরুষের কাজ কি আমরা পারমু? ফসল না পাইলে না খাইয়া মরতে হইব।’
সরেজমিনে দেখা যায়, সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হওয়ার জেরে ৬ টি গ্রামজুড়ে অস্বাভাবিক নীরবতা। দিনের বেলায় নারীরা মাঠে কাজ করলেও রাত নামলেই বাড়ে আতঙ্ক। বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীরা বেশি আতঙ্কে রয়েছেন, এমনই দাবি বাড়িতে থাকা নারীদের।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এখনো কোনো পক্ষ মামলা করতে থানায় আসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, গোয়ালনগরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।