
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় শ্রমিকদের দৈনিক কর্মঘণ্টা ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের ন্যায্য দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলেন।
এই আন্দোলন কেবল কর্মঘণ্টা কমানোর দাবি ছিল না; বরং শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা, ন্যায্য অধিকার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং অসংখ্য শ্রমিকের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। পরবর্তীতে এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্বীকৃতি হিসেবে ১ মে তারিখ এ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মহান মে দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ""সুস্থ্য শ্রমিক,কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত "" এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে, মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ ১লা মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান মে দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরানা নাছরিনের নেতৃত্বে সকালে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে একটি বর্ণাঢ্য ও সুশৃঙ্খল ব়্যালি বের হয়। ব়্যালিটি শ্রমজীবী সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। ব়্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্বে এসে শেষ হয়।
ব়্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরানা নাছরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা এম এ হান্নান এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আজিজুর রহমান চৌধুরী, নাসিরনগর থানা পুলিশ পরিদর্শক শ্রী কৃষ্ণ দাশ,উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ ইমরান মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মোঃ তাকিউল ইসলাম সহ বিএনপি,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মে দিবস শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক। শ্রমজীবী মানুষের ঘাম ও শ্রমের বিনিময়েই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তাই তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সকলের দায়িত্ব।