
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের গুনিয়াউক এলাকায় অবস্থিত বৃটিশ আমলে
নির্মিত ১০ শয্যা বিশিষ্ট গুনিয়াউক পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১৯৬৫ সালে স্থাপিত হয়, যা স্বাধীনতার অনেক আগে। নাসির নগর উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গুনিয়াউক ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এখানে জনবলের অভাবে চিকিৎসা সেবা চমরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ডাক্তার, নার্স, প্রয়োজনীয় ঔষধ না পেয়ে জনদুর্ভোগ চমর আকার ধারণ করছে। প্রায় ৪ একর বিশাল আয়তনের এই হাসপাতালে কয়েকটি এক তলা পরিত্যক্ত ভবন ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। একটি সরকারি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যা প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা সেবা দেয়ার কথা, সেখানে আছে চিকিৎসা সেবা নামের অব্যবস্থা।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই হাসপাতালে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময় হতে ভাল চিকিৎসা সেবা চলে আসছিল এমনকি অপারেশনের মতো জটিল চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো।
এখন আর মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। জনবলের অভাবে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, বিগত কয়েক বছর আগেও এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার - নার্স, ওষুধ সবই ছিল, ডাক্তার বসতেন সেবা দিতেন এখন জনশূণ্য বিরাণ ভূমি মতো।
নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিঃমিঃ দুরত্বে অবস্থিত গুনিয়াউক হাসপাতালটি। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হলে প্রায় লক্ষাধীক মানুষের উপকারে আসতো এ-ই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।
জনসংখ্যার দিক বিবেচনা করলে গুনিয়াউক ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। পাশাপাশি আছে পুর্বভাগ ইউপি,চাপরতলা ইউপি এবং হরিপুর ইউনিয়ন।
হাওর বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলায় ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন তৎকালীন বাকশাল সম্পাদক প্রয়াত জিল্লুর রহমান ৩১শয্যা বিশিষ্ট নাসির নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন, যা উপজেলা সদরে অবস্থিত। ২০০৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়। তারও আগে নাসিরনগর উপজেলার সবচেয়ে পরিচিত হাসপাতাল ছিল গুনিয়াউক হাসপাতাল। বয়সে পুরোনো হলেও বর্তমানে নেই কোন স্বাস্থ্য সেবা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির ও জনবল নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অদিতি রায় এর সাথে, তিনি প্রতিবেদককে জানান,
আমি নতুন যোগদান করেছি, আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের সেবার মান উন্নতি করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু চিকিৎসকের অনেক পদ শূন্য, ঔষধ সংকট, কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশাবাদী কিছু দিনের মধ্যেই সরকার বড় ধরনের চিকিৎসক নিয়োগ দিবেন। চিকিৎসক সংকট দূরীভূত হবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান করবেন।
এছাড়া জনবল শূন্যতার বিষয়ে আমি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। অচিরেই জনবল সংকট কাঁটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।