
খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোডশেডিং এতটাই বেড়ে গেছে যে উপজেলাবাসীর দৈনন্দিন জীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ
সরবরাহ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসার কারণেই তাদের বাধ্য হয়ে
লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরও গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক গ্রাহক।
ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও নাসিরনগরে আকাশে মেঘ জমতে না জমতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার একটি অভ্যাস তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ঘন ঘন এই বিদ্যুৎ ওঠানামার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ নানা মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ নাসিরনগর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটের কারণেই এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। তিনি জানান, উপজেলায় প্রতিদিনের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সাত-আট মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, ফলে ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়েই বাড়তি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে ভুলতা গ্রিডের নিকটবর্তী ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি লাইনের একটি ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ার বিকল্প ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও নরসিংদী জেলার অর্ধেক লোড সবরবাহ কম হচ্ছে। তাই লোডশেডিং দিয়ে চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রীড কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, দ্রুত লাইন চালু করতে। খুব দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে বলে আশাবাদী।ডিজিএম মোঃ বাচ্চু মিয়া উপজেলার সকল গ্রাহকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে এবং ধৈর্য্য ধারণ করা আহবান জানান।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন আজ অতিষ্ঠ। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান উপজেলাবাসী।