খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর,
(ব্রাক্ষণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর ফিরলেন না আরজান মিয়া (১৯)। নিখোঁজের পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে তাঁর মুখ ও শরীরে কসটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাসিরনগর উপজেলা সদরের সরকারি কলেজের গেটের সামনে মামুন মার্কেটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বেনিপাড়া এলাকা থেকে তাঁর অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আরজান মিয়া হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের আব্দুল আওয়াল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আরজান মিয়া। প্রতিদিন ই দুপুরবেলায় বাড়ি ফিরে খাবার খেয়ে আবার কাজে বের হতেন তিনি। কিন্তু ওই দিন দুপুরে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত হলেও অনেক খোঁজা খোঁজির পড়ও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরজানের বাবা আব্দুল আওয়াল জানান, ছেলে বাড়িতে না ফেরায় তাঁর মুঠোফোনে ফোন করি,
দুবার কল ঢোকার পর ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। পরে লাখাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে ও গ্রামে খোঁজ নিয়েও তাঁর সন্ধান মেলেনি।
আজ সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাসিরনগরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পান আব্দুল আওয়াল। তারপর ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি তাঁর ছেলে আরজানের বলে শনাক্ত করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। তবে আমরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি শনাক্ত করেছেন।
পরিবার সূত্রে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ করলেও মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে নিশ্চিত কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনা এলাকায় ভয় -ভীতি,আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ থানা হেফাজতে আছে, ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে