আব্দুস সালাম,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।ভোটের ফলাফল ঘোষণার পাশাপাশি গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী প্রার্থীদের জামায়াত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। ফলে নীলফামারী জেলার মোট চারটি আসনের ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ১৮ জন প্রার্থী।
জামানত হারানোর তালিকায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, জাতীয়পার্টির ২ জন, ইসলামী আন্দোলনের চার জনসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন।
বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ (১২.৫% বা এক-অষ্টমাংশ) না পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সংসদ সদস্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় ইসির নির্ধারিত ফি হিসাবে ২৫ হাজার টাকা নির্বাচনি জামানতের অর্থ, যা প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাছে জমা দিতে হয়। এটি ট্রেজারি চালান বা তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার হিসেবে জমা দেওয়া যায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে গুরুত্বহীন বা নন-সিরিয়াস প্রার্থীর সংখ্যা কমানো।
নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, লাঙল, খেজুরগাছ প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, একটি বড় অংশের প্রার্থীর ভাগ্যে জুটেছে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার গ্লানি।
এবার নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ার কারনে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ৬ জন, নীলফামারী-২ সদর আসনে ৪ জন, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ২ জন এবং নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনে ৬ জন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
নীলফামারী-১ আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩০। নিয়ম অনুযায়ী জামানত রক্ষায় এ আসনে একজন প্রার্থীকে ২৩ হাজার ৪৮২ দশমিক ৪ ভোট পেতে হবে। কিন্তু এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. তছলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১২ হাজার ২৭৬ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. রফিকুল ইসলাম ৩১২ ভোট, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপের জেবেল রহমান গানি ৪ হাজার ৪৭৭ ভোট, বিএনএফ এর মো. সিরাজুল ইসলাম ২১০ ভোট, জাতীয় পার্টি জেপি প্রার্থী মো. মখদুম আজম মাশরাফি ৪ হাজার ৫০১ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. জলিল পেয়েছেন ১ হাজার ৮৭১ ভোট। সে হিসেবে এ আসনে ৬ জন তাদের প্রত্যেকে জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুস সাত্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম (খেজুরগাছ) পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট।
নীলফামারী-২ আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৯। এই আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ২২ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৭২ ভোট।
এখানে খেলাফত মজলিসের মো. সরোয়ারুল আলম পেয়েছেন, ৩৫১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাছিবুল ইসলাম ৩ হাজার ২৬০, বিএনএফ এর মো. সিরাজুল ইসলাম ১৯৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজুল ইসলাম ৩০৭ ভোট। নির্বাচন বিধান অনুযায়ী তারা ৪জন জামানত হারাচ্ছেন।
এ আসনে ১ লাখ ৪৬হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতীফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৮ ভোট।
নীলফামারী-৩ আসনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩ হজার ৮৭৪। ৮ শতাংশ হিসেবে এ আসনে একজন প্রার্থীর জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ১৬ হাজার ৩০৯ দশমিক ৯২ ভোট।
এ আসনে জাতীয় পার্টির মো. রোহান চৌধুরী ৩ হাজার ৩৯১ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৯৯০ ভোট। তারা দুইজনেই জামানত হারাচ্ছেন।
এই আসনে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮০৭ ভোট।
নীলফামারী-৪ আসনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১৯৭। এখানে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ২৩ হাজার ২১৫ দশমিক ৭৬ ভোট।
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর পেয়েছেন ৯৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শহিদুল ইসলাম ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্তিক দলের মো. মাইদুল ইসলাম ৬৩০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশিদ ৪৩৬, স্বতন্ত্র প্রাথী জোবায়দুর রহমান ১ হাজার ৮ ভোট ও রিয়াদ আরফান সরকার ৩ হাজার ৮২৬। এই ৬ জন হারাচ্ছেন জামানত।
এ আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬ভোট। এবং জাতীয় পার্টির মো. সিদ্দিকুল আলম পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৫৭।
গত ১২ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বেসরকারি ওই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার বলেন, মোট কাস্টিং ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।