
আব্দুস সালাম,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গর্ভধারিণী মাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর শোবার ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার (৩ জুন) মধ্যরাতে উপজেলার উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রাম থেকে ষাটোর্ধ্ব মা মারুফা বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) পলাতক থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী ও সন্তানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন মারুফা বেগম। তিনি ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বুধবার বিকেলে লাভিনের স্ত্রী ঘরের তোষক ঠিক করতে গিয়ে সেখানে জমাট বাঁধা রক্তের দাগ দেখতে পান। এরপর সন্দেহবশত বড় ভাই জুয়েলের শোবার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, মেঝের একপাশের মাটি কাঁচা এবং সেখানে ফাটল ধরা।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর অভিযান চালায়। বুধবার রাত ১২টার দিকে জুয়েলের ঘরের মেঝে খুঁড়লে নিখোঁজ মায়ের নিথর দেহ বেরিয়ে আসে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুদিন আগে মাথায় ভারী বস্তু বা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মাকে খুন করে জুয়েল। এরপর আলামত লোপাটে মরদেহটি নিজের ঘরের মেঝেতেই পুঁতে রাখে সে এবং স্বাভাবিকভাবে ওই ঘরেই রাত্রিযাপন করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছেলে জুয়েলই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুয়েল পলাতক রয়েছে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও তার ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।