
সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় গোপনে গড়ে উঠা কথিত এক আয়নাঘরকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ নির্যাতন ও মুক্তিপণ বানিজ্যের অভিযোগ। জানা যায় কলমাকান্দা উপজেলার ৭নং কলাটি ইউনিয়নের ভোবালা মোড়ে একটি চারতলা ভবনের গোপন কক্ষে অসহায় মানুষদের আটকে রেখে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো নির্মম নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল ভুইয়া এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি চক্র। এদিকে স্হানীয় সূত্র ও ভূক্তভোগীদের ভাষা অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিকল্পিত ভাবে দরিদ্র ও অসহায় তরুনদের টার্গেট করতো, প্রথমে কৌশলে তাদের ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানো হতো। পরে বিভিন্ন প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে তুলে নেওয়া হতো নির্দিষ্ট ওই ভবনে। আরও জানা যায়, ওই ভবনের একটি গোপন কক্ষ স্থানীয়দের কাছে পরিচিত আয়নাঘর। সেখানেই শুরু হতো নির্যাতনের বিভীষিকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের আটকে রেখে তাদের উপর চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এরপর পরিবারকে জানানো হতো টাকা না দিলে ভুক্তভোগীকে মাদক কারবারি হিসেবে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সামনেই মারধর করা হতো। যাতে পরিবার দ্রুত টাকা দিতে বাধ্য হয় স্বজনরা। আরও অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, টাকা পরিশোধের পরই মিলেছে তাদের মুক্তি। এ বিষয়ে একজন ভুক্তভোগী কৈলাটি ইউনিয়নের ইজারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁদে ফেলে তুলে নেওয়া হয়। ওই ভবনের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এরপর আমার পরিবারকে ডেকে এনে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। এদিকে আরেকজন ভুক্তভোগী শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ওরা আগে থেকেই টার্গেট করে আমার ভাগিনা হৃদয়কে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে এবং পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। তখন তাদের ভয়ের কারণে আমরা কাউকে কিছু বলতে পারিনি।
অন্যদিকে এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রুবেল ভুইয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এই অভিযোগকারীদের সামনে এনে প্রমাণের আহবান জানান। এবং বিষয়টিকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করেন। এদিকে এ বিষয়ে সিদলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, এধরনের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। তবে এধরনের যদি কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও স্থানীয় অনেকেরই দাবি। শুধু এ বিষয়েই নয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন, জমি দখল সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। শুধু এসব নয় এছাড়াও আরও বিভিন্ন অভিযোগে পূর্বে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এদিকে স্হানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ তারা প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না। তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হতে হয় এমন অভিযোগও রয়েছে। এখন জনমনে আতংক দ্রুত তদন্তের দাবি কথিত আয়নাঘরকে ঘিরে এলাকায় এখন চরম আতংক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে কিভাবে এমন কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে। সচেতন মহলের দাবি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি।