সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর সন্তান প্রসবের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক কিবরিয়াকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার নবজাতক সন্তানের যাবতীয় দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বারহাট্টা উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, বারহাট্টা, নেত্রকোনা’-এর উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
এতে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংস্থার (বিএনপিএস) বারহাট্টা কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিএনপিএস এর কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিৎ কুমার ভৌমিক, গোপালপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু হানিফ,বারহাট্টা ইউনিয়ন ইয়ুথ গ্রুপ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, আসমা ইউনিয়ন ইয়ুথ গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আহমেদ, ছালিপুরা গন্ধরাজ নারী সমিতির সভাপতি সাবেকুন্নাহার মনি প্রমূখ।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের চরম অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। কিশোরীর মা জানান, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তারা বিচারের আশায় থানায় ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। মামলার পরও পুলিশ আসামিকে ধরছে না। তিনি অভিযুক্ত কিবরিয়ার সাথে তার মেয়ের বিয়ের দাবি জানান। কিশোরীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “গত বৈশাখ মাসে আমি মামলা করেছি।
কিন্তু পুলিশ বলছে আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না, উল্টো আমাকেই আসামি খুঁজে দিতে বলে। মামলার খরচ জোগাতে গিয়ে আমি আমার উপার্জনের একমাত্র সম্বল দেড় লাখ টাকা দামের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমরা পথে বসে গেছি। আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটার কোলে একটা বাচ্চা, আমি এখন কী করব?” মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয় বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিংধা ইউনিয়নের কিবরিয়া নামের এক ব্যক্তি এই জঘন্য অপরাধ করেছে। এটি শুধু একটি পরিবারের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজের বিবেকের ওপর চরম আঘাত।
কমিউনিটি ফোরামের সহ-নেত্রী মিনা রানী বলেন, “রাস্তাঘাটে নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা না হলে বারহাট্টার ৭টি ইউনিয়নের নারী-পুরুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তাঘাট অবরোধ করবে এবং আসামির বাড়ি ঘেরাও করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই।”বক্তারা প্রশাসন ও বারহাট্টা থানা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’-এর আগেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।বক্তারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগী পরিবারের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানান। মানববন্ধনে জানানো হয়, এমপি আনোয়ারুল হক এরই মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। মানববন্ধন থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করতে তারা বাধ্য হবেন বলে জানান।