
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনায় রমজান উপলক্ষে কেজি দরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। পুলিশ প্রশাসনের নজরদারির পরও তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিক্ষুব্ধ নেত্রকোনার সাধারণ মানুষ। এদিকে রমজান মাসে ইফতারিতে অন্যদিকে প্রচন্ড গরমে তাপদাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে বসন্তের রসালো ফল তরমুজের চাহিদাও বেড়েছে বেশ। কিন্তু আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে তরমুজের স্বাদ নিতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা। নেত্রকোনা শহরের বাজার গুলো ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা সব নিয়ম ভঙ্গ করে পিস হিসাবের পরিবর্তে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা তরমুজ নিয়ে সিন্ডিকেট করছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
ক্রেতারা জানান, এক কেজি তরমুজের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এতে করে পাঁচ কেজির একটি তরমুজ ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকায়। অথচ, এই তরমুজ ১শ’ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পিসের পরিবর্তে কেজির দরে বিক্রি করছেন তরমুজ। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তরমুজ ক্রেতারা আরোও বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়ৎদার ব্যবসায়ীরা মিলেই সিন্ডিকেট গড়ে তরমুজের দাম বাড়িয়েছে। বাধ্য হয়েই তাদের বেঁধে দেওয়া দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। ক্রেতাদের দাবী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে দাম কিছুটা হলেও নাগালে আসতো বলে জানান তারা।
শহরের মাছুয়া এলাকার তরমুজ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আগে আমরা পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করেছি। এখন আমরা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করছি। তাতে একটি তরমুজের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আড়ৎদাররা আমাদের কাছে কেজিতে তরমুজ বিক্রি করছে যে কারনে আমাদেরও কেজিতে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, সকলের সাথে আমাকেও বাজারে কেজি দরে তরমুজ বিক্রয় করতে হচ্ছে। অনেক তরমুজ ফাটা থাকে,পচে যায় বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যায়।নোয়াখালী ও বরিশাল থেকে আমারদের এই তরমুজ আনতে হয় অনেক খরচ হয় যে কারণে আমি অন্যদের মতো কেজিতে তরমুজ বিক্রয় করতে বাধ্য হয়েছি। নেত্রকোনা ফল ব্যবসায়ীর সভাপতি জজ মিয়া বলেন, ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন নজরদারি শুরু করেছেন। কেজি দরে কোনো প্রকার তরমুজ বিক্রয় করা যাবেনা। তিনি বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিতে তরমুজের দামে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করি। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দাবী অবিলম্বে অসাধু ব্যবসায়ী সেন্ডিকেট বন্ধ করে নিম্ন শ্রমজিবী মানুষ কম টাকায় ক্রয় করার দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।