1. admin@moheshpurnews24.com : admin :
April 5, 2026, 4:17 pm
শিরোনামঃ
সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় ২ টি পাক ফ্যান হস্তান্তর করেন নজেকশিস জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদকে সংবর্ধনা দিল পলশা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি সুন্দরবনে ৪ হাজার ফুট ফাঁদসহ হরিণ শিকারিকে আটক করেছে বনবিভাগ নাসিরনগরে ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা; পটিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিয়াদ বিন সেলিম গ্রেফতার ভাই’ সম্বোধনে ক্ষোভ কুড়িগ্রামের এসিল্যান্ডের, অপমানজনক আচরণের অভিযোগ নাসিরনগরের কৃতি সন্তান শিক্ষাবিদ ও লেখক  ড. মোহাম্মদ মইনুল হোসেন এর ইন্তেকাল। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিসতা স্বাধীনতা দিবস ফুটভলি চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন নেত্রকোনায় সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে চান শীতল পাটির কারিগররা
ব্রেকিং নিউজঃ
সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় ২ টি পাক ফ্যান হস্তান্তর করেন নজেকশিস জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদকে সংবর্ধনা দিল পলশা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি সুন্দরবনে ৪ হাজার ফুট ফাঁদসহ হরিণ শিকারিকে আটক করেছে বনবিভাগ নাসিরনগরে ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা; পটিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিয়াদ বিন সেলিম গ্রেফতার ভাই’ সম্বোধনে ক্ষোভ কুড়িগ্রামের এসিল্যান্ডের, অপমানজনক আচরণের অভিযোগ নাসিরনগরের কৃতি সন্তান শিক্ষাবিদ ও লেখক  ড. মোহাম্মদ মইনুল হোসেন এর ইন্তেকাল। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিসতা স্বাধীনতা দিবস ফুটভলি চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধন নেত্রকোনায় সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে চান শীতল পাটির কারিগররা

নেত্রকোনায় সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে চান শীতল পাটির কারিগররা

  • Update Time : Sunday, April 5, 2026

সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
বারবার বন্যার ক্ষতির মুখে ঝিমিয়ে পড়েছেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের শীতল পাটির শিল্পীরা। পাটি তৈরির কাঁচা মাল মুর্তার দাম বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে পাটির দাম ও ক্রেতা কমে যাওয়া সহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতায় তারা শীতল পাটি তৈরিতে আগ্রহ হারিয়েছেন। এতে করে এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবার নিতান্তকষ্টে দিন যাপন করছে। তবে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এখানকার শীতল পাটির কারিগররা।নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা হাওরপাড়ের জৈনপুর, হাতনী, জৈনপুর, কেন্দুয়া, ভাটাপাড়া, নোয়াগাও, হরিপুর ও তাহেরপুরের গ্রামে যুগ যুগ ধরে এই শীতল পাটি তৈরি করে জীবন জীবিকা চালাচ্ছেন এখানকার অনেক মানুষ। তবে প্রচার নেই বলে স্থানীয় বাজারে কম দামে শীতল পাটি বিক্রি করতে হয় তাদের। বর্তমানে বাজারে প্লাস্টিকের পাটির দাপটে মুর্তার তৈরি শীতল পাটি অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে। এক সময় প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও এখন শুধু সখের বসেই মানুষ শীতল পাটি ব্যবহার করেন। সরেজমিনে শীতল পাটির কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুর্তা নামে এক ধরনের বর্ষজীবী উদ্ভিদের কান্ড থেকে পাটি বেত তৈরি করা হয়। পরিপক্ক মুর্তা গাছ কেটে পানিতে ভিজিয়ে তারপর পাটির বেত তোলা হয়। এরপর ভাতের মাড় ও পানি মিশিয়ে বেতি জ্বাল দেওয়া হয়। এর ফলে বেত হয়ে ওঠে মসৃণ ও সাদাটে। বেতের উপরের খোলস থেকে শীতলপাটি, পরের অংশ তুলে বুকার পাটি এবং অবশিষ্ট অংশ চিকন দড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সরেজমিনে ওইসব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় বাড়িতেই নারী-পুরুষ শীতল পাটি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এই কাজে বেশি দক্ষ। সাংসারিক কাজ শেষ করে বাকি সময়টা তারা পাটি তৈরির কাজ করেন। স্থানীয়ভাবে পাটি তৈরির কাঁচামাল মুর্তার চাষ হলেও তা যতেষ্ট না হওয়ায় পুরুষরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে ঘুরে মুক্তা সংগ্রহ করেন। মুর্তা সংগ্রহকারী হাতনী গ্রামের মানিক দত্ত ও শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় অধিকাংশ মুর্তা বর্ষা মৌসুমেই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া শুস্ক মৌসুমেও মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, ঝারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে মুর্তা সংগ্রহ করে স্থানীয় পাটির কারিগরদের কাছে বিক্রি করি। হাতনী গ্রামের লক্ষী রানী, প্রমিলা রানী ঘোষ, সুগন্ধা দত্ত, সন্ধ্যা রানী, রেখা রানী, জৈনপুর গ্রামের কমলা বনিক, ফুলন তালুকদার, তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে দৃষ্টি তালুকদার ও মিনতি তালুকদার জানায়, শীতল পাটি তৈরি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। একটি সাধারণ পাটি তৈরিতে তাদের সময় লাগে কমপক্ষে ৩ দিন। প্রতিটি পাটির কাঁচামাল ক্রয় করতে ব্যয় হয় প্রায় ২’শ থেকে ৩’শ টাকা। বিক্রি হয় ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। তৈরিকৃত পাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। আবার স্থানীয় জৈনপুর বাজারে সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার পাটির হাট বসে। এখানেও বিক্রি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কুসু মহন কর, নিপেন্দ্র বনিক ও প্রদীপ দেবনাথ শুক্রবার ও সোমবার জৈনপুর বাজার থেকে পাটি ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। তারা জানান, এক সময় এই এলাকায় অনেক শীতল পাটি তৈরি হতো। এখন কমে গেছে, প্রতি বাজারে এখন ২-৩শ পাটি উঠে। পাটি তৈরির কারিগরেরা জানান, পাটি তৈরির কাঁচামাল মুর্তা মূলত বর্ষা মৌসুমেই বেশি সংগ্রহ করা হয়। কারণ এই সময়ে নৌকায় কম খরচে পরিবহন করা যায়। নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় দাদন ব্যবসায়ীদের থেকে সুদে টাকা নিয়ে মুর্তা ক্রয় করি। বছর শেষে দাদন ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দিশেহারা হতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় এক দাদন ব্যবসায়ীর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে অন্য দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। শীতল পাটির কারিগর প্রমিলা রানী ঘোষ জানান, শীতল পাটি তৈরিতে অনেক সময় ও শ্রম দিতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচও আগের চেয়ে বেশি লাগে। এদিকে বিক্রি করতে গিয়ে দাম আগের মতোই। ফলে কারিগরদের মধ্যে শীতল পাটি তৈরির আগ্রহ কমে যাচ্ছে। শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে আর বংশপরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্য হিসেবে এ কাজে ঠিকে আছি। এরই মধ্যে অনেকেই পেশা বদলেছেন।

শীতল পাটি তৈরির কারিগররা আরও জানান, অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান না হওয়ায় অনেকে এ পেশা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। শীতল পাটির কারিগর দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগে শীতল পাটির উপকরণ মুর্তা কেনা লাগতো না। এগুলো আগাছার মতো যেখানে সেখানে জন্মাত। কারিগররা সেগুলো সংগ্রহ করে পাটি বুনত। শুধু সময় ও পরিশ্রমের দাম হিসেবে এগুলোর মূল্য নির্ধারিত হতো। কিন্তু আজকের পরিবর্তিত সময়ে সবার মাঝে আর্থিক সচেতনতা এসে গেছে। তাছাড়া বর্তমানে মুর্তা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

তাই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সারাবছরের পাটি তৈরির জন্য মুর্তা কিনে রাখতে হয়। ফলে মুর্তা কেনার টাকার জন্য দাদন কারবারিদের দারস্থ হতে হয়। সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে কারিগরেরা বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য হস্তশিল্পের মতোই এ শিল্পের শিল্পীরা দরিদ্র ও অবহেলিত। সরকারের এ শিল্পের দিকে একটু নজর দেয়া উচিত। বিশ্বের দরবারে সম্মান সূচক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এ শিল্প। সারাবিশ্বে এ শীতল পাটি শিল্পের শিল্পীদের কাজে পারদর্শিতার নৈপুণ্য ও শিল্পসত্তার ভুয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। যদিও আমরা এখানে পিছিয়ে আছি। শীতল পাটি তৈরির কারিগর মিনতি রানী তালুকদার বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। আমার দুই মেয়েও পাটি বুনন শিখে গেছে।

এক সময় পাটি তৈরি করে ভালো আয় হতো। এখন আর সেই সুদিন নেই। বিভিন্ন সংকটের কারণে শীতল পাটি বিক্রি করে তেমন পারিশ্রমিক আসেনাই। শিল্পটি রক্ষায় সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। পাশাপাাশি কোনো মাধ্যম ছাড়া আমরা কারিগরেরা যেন সরাসরি রাজধানীর ব্যবসায়ী বা ক্রেতাদের কাছে ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারি সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া। এর জন্যে প্রচার প্রসার বাড়ানো। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। উল্লেখ্য- শীতল পাটি বাংলার সুপ্রাচীন এক কুটির শিল্পের নাম। শীতল পাটি আমাদের সভ্যতা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের অংশ। এছাড়া বাংলাদেশের শীতল পাটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যেরও অংশ। জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো শীতল পাটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন

মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামে প্রথমবারের মত বেদানা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন শিক্ষিত যুবক আব্দুল্লাহ। মহেশপুরের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মিলন কৃষির প্রতি আগ্রহী এই যুবকটি তাঁর রেখাপাড়ার জীবন শেষ করে করার পর চাকরির পরিবর্তে নিজস্ব উদ্যোগে বেদানা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তিন বছর আগে ৫১ টি তিনি প্রাথমিকভাবে কিছু বিছাকৃতী বেদানা গাছ লাগাতে শুরু করেন। আব্দুল্লাহ তাঁর গবেষণায় আবিষ্কার করেন যে, মহেশপুরের মাটি এবং জলবায়ু বেদানা চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এর ফলে, তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপদেশ গ্রহণ করে এবং কীটনাশক এবং সার ব্যবহারে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করেন। চাষ শুরু করার পর থেকে আব্দুল্লাহ তার গাছগুলোর যত্ন নিতে শুরু করেন। নিয়মিত জল দেওয়া, পুষ্টি উপাদান দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁর বেদানা গাছগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিছু মাসের মধ্যে গাছগুলো ফল দিতে শুরু করে, এবং তিনি প্রথম ফসল হবার পর তোলে তাঁর আশেপাশের কৃষকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়ান। আব্দুল্লাহ বলেন, “বেদানা চাষ আমার জীবনের একটি পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। আমি শুধু নিজের জন্যই নয়, আমার গ্রামের কৃষকদের জন্যও একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পেরেছি।” তিনি কৃষকদের বেদানা চাষের বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে তাদের অনুপ্রাণিত করতে থাকেন। বর্তমানে, আব্দুল্লাহর চাষ করা বেদানা বিক্রির জন্য বাজারে বিক্রি হতে শুরু করেছে, এবং এতে তিনি লাভও অর্জন করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁর উৎপাদন দেখে মুগ্ধ এবং বিভিন্ন ধরনের কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বেদানা চাষের সুবিধাগুলি তুলে ধরছেন। এখন আব্দুল্লাহ যোগীহুদা গ্রামের তরুণ কৃষকদের মধ্যে একটি আইকন হয়ে উঠেছেন, এবং তাঁর উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে মহেশপুরে বেদানা চাষে আরও বিপুল সফলতা আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

© All rights reserved © 2024 Zahidit News
Theme Customized By bdit.com.bd