
সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে বছরের বাকি ছয় মাস পানি কমে গিয়ে বিস্তীর্ণ প্রান্তর সবুজ ঘাস কিংবা সোনালি ফসলে ভরে ওঠে। হাওরের পানি ও মাটিতে টিকে থাকা হিজল-করচের সারি প্রকৃতিকে আরো স্নিগ্ধ করে তোলে। তবে কৃষি ও মৎস্যনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই কাটে।বছরজুড়ে কৃষকের অপেক্ষা, ভরসা আর স্বপ্ন এক ফসলকে ঘিরে। নেত্রকোনা জেলার হাওরবেষ্টিত মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীসহ সাতটি উপজেলায় হাওরে বোরো ধান ঘরে উঠলেই মেটে সংসারের খরচ, শোধ হয় ঋণ, আসে নতুন বছরের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই একমাত্র ফসলের পথজুড়েই থাকে আগাম বন্যা, অতিবৃষ্টি আর বাঁধভাঙা পানির শঙ্কা। সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে এক মৌসুমের ক্ষতিতে থমকে যায় পুরো বছরের জীবন-জীবিকা। তাই এক ফসলের ওপর ভর করে হাওরের কৃষকের জীবন যেমন সম্ভাবনায় ভরা,তেমনি প্রতিটি মৌসুমে অনিশ্চয়তাও পিছু ছাড়ে না। জেলার হাওরাঞ্চলে বছরের বাকি ছয় মাস পানি কমে গিয়ে বিস্তীর্ণ প্রান্তর সবুজ ঘাস কিংবা সোনালি ফসলে ভরে ওঠে। হাওরের পানি ও মাটিতে টিকে থাকা হিজল-করচের সারি প্রকৃতিকে আরো স্নিগ্ধ করে তোলে। তবে কৃষি ও মৎস্যনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই কাটে।
নেত্রকোনায় প্রতি বছর ছোট-বড় ১৩৪টি হাওরের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার ডুবন্ত ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ করা হয় বোরো মৌসুমের আগে। এর পরও আগাম বন্যার আতঙ্ক কাটে না কৃষকদের। গত মে মাসে বোরো ধান পুরোপুরি পাকতে না পাকতেই টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়ে জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টরের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। নেত্রকোনার আটপাড়ার সুমাইখালী ও মদনের গণেশের হাওরসহ খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে এ চিত্র দেখা যায়। পানিতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। পাশাপাশি অধিকাংশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিক সংকটে পড়ে চরম বিপাকে পড়েন কৃষকরা। কেউ হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটেন, আবার কেউ কাটা ধান নৌকায় তুলে উঁচু জায়গায় নিয়ে রাখেন। এ কাজে শিশু ও নারীরাও অংশ নেন। খালিয়াজুরীর কৃষক ইদ্রিছ হোসেন বলেন, ‘হাওরের কৃষকরা একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভর করে থাকি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি ফসলহানি হয়, তাহলে আমাদের আরেক বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ভালো ফলনের আশায়। আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা আমাদের হাওরের কৃষকদের পিছু ছাড়ে না।
এদিকে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, কেন্দুয়া, কলমাকান্দা ও আটপাড়া উপজেলায় বর্ষা শেষেই বোরো আবাদের ধুম পড়ে যাবে। কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জমি তৈরি, সার প্রয়োগ ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করবেন। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের ইরি-বোরো চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ডোবায় বর্ষার পরও পানি থাকায় অনেক সময় বোরোর বীজতলা তৈরি করতে পারেন না কৃষকরা। ফলে বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কায় থাকেন তারা। তবে আগাম বন্যার কবল থেকে ফসল রক্ষায় ছোট-বড় ১৩৪টি হাওরের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার ডুবন্ত ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন।
01320548651
06/09/2026