
সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা এক স্টেশনে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ না থাকলেও নেত্রকোনায় সেই নিয়ম ভেঙে তিন বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছেমুর রহমান। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ধান-চাল সংগ্রহে কমিশন বাণিজ্য, মাসোহারা আদায় এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মো. মোয়েতাছেমুর রহমান ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেন। গত ৩০ এপ্রিল তার দায়িত্ব পালনের তিন বছর পূর্ণ হলেও এখনো তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, চলমান বোরো মৌসুমে নেত্রকোনায় অবস্থান ধরে রাখতে তিনি তদবির ও ঘুষের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন মহলকে প্রভাবিত করেছেন। খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত তিন বছরে বোরো ও আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ, মিলে ছাঁটাই এবং অন্যান্য খাতে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা জুড়ে চাল সংগ্রহে প্রতি টনে ২০০ টাকা, ধান সংগ্রহে প্রতি টনে ৩০০ টাকা এবং মিলে ছাঁটাই বাবদ প্রতি টনে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। প্রতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়। শুধু চাল সংগ্রহ থেকেই কমিশন বাবদ প্রায় সোয়া কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধান সংগ্রহ এবং আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ মিলিয়ে বছরে দুই কোটির বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া গুদাম কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ৪৮ লাখ টাকা দিয়ে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রাইভেটকার কিনে সেটি এক মামাতো ভাইয়ের নামে নিবন্ধন করে নিজে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ‘নোভামেড’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা রোডে বাড়ি, গাজীপুরে সোয়েটার কারখানা, নিউ উপজেলা গৌরীপুরে বেশ কয়েকটি ট্রাক (ত্রয়ী পরিবহন) ও চালের হাস্কিং মিলসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, “নিয়মবহির্ভূত হলেও আমাকে কেন এখানে রাখা হচ্ছে, সেটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন। এতে আমার কোনো হাত নেই। অতিরিক্ত সময় থাকার জন্য হয়তো নতুন আদেশ হবে।”গাড়ি ও হাসপাতালের মালিকানা অস্বীকার করে তিনি বলেন, গাড়িটি আমার এক মামাতো ভাইয়ের, আর হাসপাতালটি আমার ভাতিজার নামে। ঘুস ও কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ময়মনসিংহের বাড়ির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।