
সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খালেদ হোসেনের বিরুদ্ধে কারসাজির মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রাপ্যের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি জমি নামজারির (খারিজ) প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই জমির অন্য মালিকেরা তাঁদের হিস্যার জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের রামজীবনপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নম্বর ১৮২-এর বিআরএস দাগ নম্বর ২১৩-তে মোট জমির পরিমাণ ৩৮ শতাংশ। ওই দাগে হিস্যা অনুযায়ী সামছুদ্দিনের প্রাপ্য জমি ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। অথচ কয়েক বছর আগে তিনি ওই দাগের ৩৮ শতাংশ জমিই আব্দুস ছাত্তারের কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ নিজের প্রাপ্য জমির তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি জমি তিনি বিক্রি করেন। এদিকে একই দাগে সামছুদ্দিনের তিন ভাতিজি পদুনা খাতুন ওরফে পারভীন, জয়দুনা খাতুন ও জরিনা খাতুনের হিস্যা রয়েছে প্রায় সোয়া ২২ শতাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সামছুদ্দিনের হিস্যার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করে দেওয়ার কারণে তাঁদের প্রাপ্য জমিও ওই বিক্রয় দলিলের আওতায় চলে যায়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আব্দুস ছাত্তার জীবিত থাকাকালে তাঁর নামে ওই জমি নামজারি করা সম্ভব হয়নি। কারণ, বিক্রেতার হিস্যার তুলনায় অতিরিক্ত জমি দলিল করে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অসামঞ্জস্য ছিল। এ কারণে একাধিক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওই জমির নামজারির প্রস্তাব দিতে রাজি হননি বলে দাবি তাঁদের।
পরে আব্দুস ছাত্তার মারা গেলে তাঁর ওয়ারিশদের নামে জমিটি নামজারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত আগস্টে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন আর্থিক সুবিধা নিয়ে আব্দুস ছাত্তারের ওয়ারিশদের নামে ৩৮ শতাংশ জমির নামজারির প্রস্তাব দেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের ওই নামজারি অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এর আগে গত জুলাইয়ে ওই দাগের জমির মালিক জরিনা খাতুন জমিটি নামজারি না করার অনুরোধ জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তাঁর অভিযোগ, আবেদনটি আমলে না নিয়ে পরবর্তী সময়ে নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং তা অনুমোদনও করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জমির হিস্যা, পূর্বের দলিল এবং ওয়ারিশদের স্বত্ব যাচাই করে দেখলে সামছুদ্দিনের প্রাপ্যের অতিরিক্ত জমি বিক্রির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু এসব যাচাই-বাছাই না করেই নামজারির প্রস্তাব ও অনুমোদন দেওয়ায় প্রকৃত ওয়ারিশদের জমি বঞ্চিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পদুনা খাতুন ওরফে পারভীন বলেন, আমাদের প্রাপ্য জমি থাকা সত্ত্বেও অন্যের নামে পুরো দাগের জমি নামজারি করে দেওয়া হয়েছে। সামছুদ্দিনের যতটুকু জমি পাওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি জমি তিনি বিক্রি করেছেন। আমরা বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেওয়া হয়নি। নামজারির বিষয়ে জানতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর হদয় বলেছে- নামজারি নেত্রকোনা থেকে হয়েছে। সেখানে গিয়ে খোঁজ মেন। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। জরিনা খাতুন বলেন, “জমিটি যাতে অন্যের নামে নামজারি না করা হয়, সে জন্য আমি জুলাই মাসেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। এরপরও কীভাবে পুরো জমি অন্যদের নামে নামজারি হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার জমি ফেরত চাই। ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর হৃদয় মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন বলেন, নামজারিতে কোন অনিয়ম হলে সেটি বাতিল করে দেওয়া হবে। তবে কারসাজি করে নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের প্রশিক্ষণে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, কাগজপত্রগুলো পাঠান দেখি। নামজারিতে অনিয়ম হলে, নামজারি বাতিলসহ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভুক্তভোগীদের দাবি, নামজারি প্রক্রিয়াটি পুনরায় যাচাই করে বিক্রেতার প্রকৃত হিস্যা, সংশ্লিষ্ট দলিল ও ওয়ারিশদের স্বত্ব যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত মালিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
০১৩২০৫৪৮৬৫১
২৪/০৯/২৬ ইং