
মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
পরকীয়ার বলি হয়ে , রামেক হাসপাতালে মৃত্যু হলো মেঘনার ,
সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে এই মৃত্যু ।
ঈশ্বরদীতে স্বামীর পরকীয়ার বলি গৃহবধূ মেঘনা:
'আমার মৃত্যুর জন্য স্বামী-শ্বশুরবাড়িই দায়ী'—মৃত্যুর আগে মোবাইলে ভিডিও,,,,, করে মেঘনা ।
ঈশ্বরদীতে মৃত্যুর আগে নিজের মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দায়ী করার পর আত্মহত্যা করেছেন মেঘনা খাতুন (২১) নামে এক গৃহবধূ। ভিডিওতে তিনি স্বামীর পরকীয়া এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেছেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মেঘনা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার হারুন উর রশিদের মেয়ে। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়াগড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের গোলাম আজমের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ভালোবেসে গোলাম আজমের সঙ্গে মেঘনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ফুপাতো বোনের এক বান্ধবীর সঙ্গে ফেসবুকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে গোলাম আজম মেঘনাকে মারধর করেন এবং গলা চেপে ধরেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরদিন রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অভিমানে গলায় ফাঁস দেন মেঘনা। তবে আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর মৃত্যুর জন্য স্বামী গোলাম আজম, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ এবং শারীরিক নির্যাতনের কথাও তুলে ধরেন।
রোববার বিকেলে গোলাম আজম মুঠোফোনে মেঘনার গলায় ফাঁস দেওয়ার খবর তাঁর বাবার পরিবারকে জানান। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মেঘনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর বাবা হারুন উর রশিদ।
এ ঘটনার পর থেকেই গোলাম আজমসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে ।