নিরঞ্জন মিত্র (নিরু) (ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
মানসিক ভারসাম্যহীন অপ্রাপ্ত বয়সী নিজ পুত্রকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পরমান্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান সরদার এর বিরুদ্ধে।
নিয়োগ প্রাপ্ত ১৪ বয়সী ঐ কিশোর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান সরদার এর পুত্র। এদিকে ঘটনার জের ধরে বিদ্যালয়ের সাবেক এ্যাডহক কমিটির সভাপতিসহ অভিভাবক সদস্যরা জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বরত সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় চরম হতাশায় ভুগছে অভিযোগকারীসহ স্থানীয়রা। যদিও নিয়োগের প্রায় ৩ বছর পর ঘটনা জানাজানি হলে ঐ নিয়োগ বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক দাবি করলেও প্রধান শিক্ষকের নিজ প্রভাবে নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান বা অব্যহতির কোন নিয়ম তোয়াক্কা করছেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি প্রতিবেদকের বিভিন্ন প্রশ্নের বিপরীতে একপর্যায়ে তিনি এলোমেলো কথা বলা শুরু করে এড়িয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান সরদার অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তার নিজের অপ্রাপ্ত বয়সী ছেলেকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের শূন্যপদের বিপরীতে একজন চতুর্থ শ্রেণির অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রদান করেন। তার নিয়োগে পিডিএম আইডিঃ ১০১৯৬০৪৩৮।
অপরদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত আবরার ফাইরাজ পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীর একটি পরীক্ষার রেজাল্টের প্রত্যয়নপত্রে তার জন্ম তারিখ ০৮-০২-২০১১ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে বর্তমানে তার বয়স ১৫ বছর হলেও নিয়োগের তিন বছর আগে তার বয়স ছিলো ১২ বছর। একই সাথে ঐ নিয়োগপ্রাপ্ত আবরার ফাইরাজ প্রশ্ন বর্তমানে একই স্কুলে নবম শ্রেনীতে পড়াশুনা করছেন। একদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় অফিস সহায়ক পদে সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রেও ঐ কিশোর কোন ভূমিকা পালন করতে পারছেনা। এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন ঐ কিশোরকে দেখভালের জন্য একজন লোকের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী ও অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়মানুযায়ী কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে কোনো কমিটির তোয়াক্কা করেন নাই। তারা জানান, প্রধান শিক্ষক সহ একটি চক্র স্বজনপ্রীতি আত্মীয়করণ ও টাকার বিনিময়ে এই পদে তার প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ দিকে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকের ভিতর তিব্র খোবের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় মুঠোফোনে পরমান্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সদ্য সাবেক সভাপতি বাবুল হোসেন জিহাদ জানান, এ ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানায় নাই। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরন না করে এবং ম্যানেজিং কমিটিকে কোন কিছু না জানিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে এই সীমাহিন দূর্নিতীর মাধ্যমে নিয়াগ প্রক্রিয়া করেছেন। সবকিছুই জানেন প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান সরদার এর সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি উক্ত নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে দাবি করে জানান, ঐ কিশোর স্কুলে পড়াশুনা করে বর্তমানে নবম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তবে ছাত্র হিসেবে দাবি করলেও কেনই বা তার নিয়োগ বাতিল করা হবে, এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি তিনি। এ ছাড়াও নিয়োগের সময় বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী সর্বনিম্ন ১৮ বছর বয়স থাকার কথা থাকলেও ১৫ বয়সী ঐ কিশোরের জন্ম সনদ পুন:সংশোধন করা হয়েছিরো বলেও দাবি করেন শিক্ষক আসাদুজ্জামান সরদার। তবে বয়স কিভাবে বাড়ানো হলো এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারো কোন জবাব দিতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই তিনি উগ্র মেজাজে বলেন,
আপনারা বুঝতে পারছেন না কিভাবে নিয়োগ হয়। এছাড়াও নিয়োগের প্রায় ৩ বছর পার হয়ে গেলেও এতদিন ঐ নিয়োগের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন না করে সম্প্রতি অভিযোগ উঠার প্রায় দেড় মাস পর কেনই বা নিয়োগ বাতিল করা হচ্ছে প্রশ্ন করা হলে তারও কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। সর্বপোরি সে ছাত্র নাকি নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক দুটি বিষয়ে সত্যত্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিদ্যালয় কমিটির সাথে কথা বলে পুনরায় বক্তব্য দিবেন বলে লাইনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বরত সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া এর সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি দায়িত্বরত সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইকবাল হাসান জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের ভাড় দেওয়া হলেও নির্বাচনী জটিলতায় অনেক কাজই পেইন্ডিং রয়েছে। তবে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আশা করছি দুই- একদিনের মধ্যেই নোটিশ জাড়ির পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।