
নিরঞ্জন মিত্র (নিরু) (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
''ডিজিটাল যুগে অপতথ্য রুখতে তথ্যপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ নয়, চাই অবাধ তথ্যে অভিগম্যতা” এই প্রতিপাদ্যে সামনে রেখে, ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস- ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ফরিদপুর ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি’র) যৌথ উদ্যোগে,(২৮ সেপ্টেম্বর) সোমবার
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে,
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে, এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি অধ্যাপক শিপ্রা রায়, সহ-সভাপতি পান্না বালা, সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ মোজামম্মেল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ রায়হান গফুরসহ জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সহ-সভাপতি পান্না বালা, তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর বয়স হলো ১৭ বছর কিন্তু এখন পর্যন্ত এই আইনটির যথাযথ প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি এই আইনসহ সকল আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন, তিনি বলেন কিছু অফিসে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা নেই বা অনেক অফিস তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে। তিনি বলেন আমাদের সকলের মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং সকল সরকারি দপ্তরকে যতটুকু তথ্য দরকার ততটুকু জনগণকে দেওয়ার দাবী জানান।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র পক্ষ থেকে ০৭ টি তথ্যের উপর একটি হালনাগাদ চিত্র উপস্থাপন করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ গোলাম মোস্তফা। তিনি জেলার তথ্য বাতায়নের অর্ন্তভুক্ত ৭৬ টি দপ্তরের ০৭ বিষয়ের উপর ওয়েব পোর্টালের উপর পরিচালিত একটি ফলোআপ জড়িপের ফলাফল উপস্থাপনা করেন। ওয়েব পোর্টালের ফলোআপ জড়িপে দেখা যায় গত বছরের তুলনায় এবছর তথ্য হালনাগাদের হার কমেছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ১৭ টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য গতবছরের তুলনায় বেড়েছে, কমেছে ৩৪ টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টি প্রতিষ্ঠানের। এছাড়াও ০২ টি তথ্য রয়েছে ০৭ টি দপ্তরের এবং কোন তথ্য হালনাগাদ নেই ০২ টি দপ্তরের।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক শিপ্রা রায় বক্তব্যে বলেন; তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ তৈরীতে টিআইবি বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে এবং গণমানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে এই আইনটি বাস্তবায়নে শুরু থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে সনাক, ফরিদপুর। তিনি বলেন আইনটি সম্পর্কে সম্মিলিতভাবে গণসচেতনা বাড়াতে কাজ করতে হবে, তথ্য জানলে দুর্নিীতি কমবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক তিনি তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারা ও প্রয়োগ সম্পর্কে তুলে ধরেন।
বক্তব্য রাখেন মোঃ রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, আইন-শৃংখলা বাহিনীর জন্য অনেক সময় তাৎক্ষণিক তথ্য দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি অপতথ্য রোধ, ভূযা তথ্য, এআই দ্বারা নির্মিত তথ্য রোধে সকলকে সচেতন হতে এবং তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ প্রদান করেন।
মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন ব্লাস্টের প্রতিনিধি শিপ্রা গোস্বামী, মোঃ খায়রুল ইসলাম-সহকারী পরিচালক-জেলা মৎস অফিসারের কার্যালয়. তারেক আহম্মেদ সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ফরিদপুর জেলার জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, নীতি হবে আলোর মতো পরিস্কার। তিনি তথ্য চাওয়ার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি তথ্যের অপব্যবহার রোধে তথ্যে চাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য চাওয়া ও প্রদান করার বিষয়টি সম্পর্কে সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
সভা শেষে বক্তব্যে রাখেন, অতিরিক্ত জেলা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সুস্মিতা সাহা, তিনি তাঁর বলেন যে, বাংলাদেশে দুইটি আইন রয়েছে তথ্য অধিকার আইন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরকারি প্রতিনিধির কাছে তথ্য চায় বা জানতে চায়। তিনি বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আইনের প্রয়োগের কথা বলেন। এছাড়াও তিনি অপতথ্যের মাধ্যমে অনেক সরকারি কর্মকর্তাদের মানহানি করা, ভয়-ভীতি দেখানো ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। তিনি সকলকে তথ্য জানার ও তথ্যের ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরিশেষে তিনি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও টিআইবিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন যে তাঁরা প্রতিবছরের ন্যয় এবছরও জেলার তথ্য বাতায়নের ওয়েব পোর্টাল সম্পর্কিত জড়িপ কার্যক্রমটি পরিচালনার করেছে এবং জড়িপে যে তথ্য উঠে এসেছে তা অবিলম্বে সকল সরকারি দপ্তরকে তাদের নিজ নিজ দপ্তরের তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশনা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, বেসরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিশেষ করে শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ইয়ুথ সেচ্ছাসেবী, সনাক, ইয়েস ও এসিজি প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।