
নিরঞ্জন মিত্র (নিরু) (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ কল্যাণ এবং মত্যলোকে শান্তি ও সম্প্রীতির আকাঙ্খা নিয়ে সারা দেশে একযোগে পালিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এরই অংশ হিসেবে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর বাবুপাড়া
সন্তোষ বাবু বাড়ীতে সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডপে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
(২০অক্টোবর) মঙ্গলবার সকালে ঢাকঢোল আর কাঁসার বাদ্য বাজিয়ে, নির্ধারিত মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে মহানবমী বিহিত পুজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
এদিকে উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়ীর প্রতিটি কোনাসহ আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানো হয়েছে দুর্গা মন্দির। বিভিন্ন রং-বেরঙ্গের আলোকসজ্জ্বায় এক অপরুপ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দু ধর্মালম্বীদের রীতি অনুসরন করে সন্তোষ বাবুর বাড়ীতে এই উল্লেখয়োগ্য পুজা করছেন পুরোহিত তাপস ভট্যাচার্য এবং ঢাকের তালে দিপু দাস ও লব দাস।
সন্তোষ বাবু বাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডপের সভাপতি বাবুল চন্দ্র সরকার তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের তাণ্ডবে আমাদের পরিবারের বাড়ি-ভিটা ও
দুর্গা মণ্ডপ বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভাঙা ভিটাতেই আবার নতুন করে পূজা শুরু করি। দীর্ঘ কয়েক দশক বন্ধ থাকার পর সাম্প্রতিক ১০ বছর পুনরায় সাড়ম্বরে দুর্গা পূজা চালু করি।
উল্লেখ্য, গত (১০ অক্টোবর) শনিবার মহালয়ার দিন প্রভাতে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দুর্গা দেবীর আর্বিভাব শুরু হয়, এইদিন ভোর থেকেই দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছিল। এ বছর দেবী দুর্গা এসেছেন ঘোটকে চড়ে আর ফিরবেন নৌকায়। তিনি বলেন, মহালয়ার ছয় দিন পরেই গত (১৫ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার পূজা এবং (১৬ অক্টোবর) শুক্রবার মহাষষ্ঠী, (১৭ অক্টোবর) শনিবার মহাসপ্তমী, (১৮ অক্টোবর) রবিবার মহাসপ্তমীর (অধিক পূজা), গতকাল (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, আজ (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার মহানবমী ও আগামীকাল (২১ অক্টোবর) বুধবার বিজয়া দশমীতে দর্পন বিসর্জন ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এ বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব একদিন বেড়ে ছয় দিন হচ্ছে।