
নিরঞ্জন মিত্র (নিরু) (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
"অল্প সময়ে, সল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে" এই স্লোগানকে ধারণ করে ফরিদপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর সেবা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা এবং ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত,(১৩ সেপ্টেম্বর) রবিবার বিকেলে জেলায় সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের
হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
৯ নং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন এর সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন,
গ্রাম আদালতের ফরিদপুর সদর উপজেলা সমন্বয়কারী মোছাঃ রুবিনা বেগম।
ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন, গ্রাম আদালতের জেলা হিসাব রক্ষক তপক মন্ডল।
এ-সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, সুশীল সমাজ,
সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ-সময়, গ্রাম আদালতের বিভিন্ন ধরনের আইনি সেবা, আইনি সুবিধা ও গ্রামীণ অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য এর সুদুরপ্রসারি সম্পর্কে ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ধারণা দেখানো হয়।
সভায়, ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্নদ আলতাফ হুসাইন, গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন এবং স্থানীয় সরকার, ইউএনডিপি ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে এ প্রকল্পে সহযোগিতায় জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীরা স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছেন। পাশাপাশি গ্রাম আদালত উন্মুক্ত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।
এছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ন্যায়বিচার সহজলভ্য করে মানুষের জীবনকে পরিবর্তন করছে বলে জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালতগুলোকে আরও সক্রিয়করণে করতে তৃণমূলপর্যায়ে অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে স্থানীয় ছোটখাটো বিরোধ মীমাংসা এবং গ্রামীণ জনগণের মাঝে বিচারিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের অনেকেই এখনো এই আদালতের আইনি সুবিধা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। প্রান্তিক মানুষের এই আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মামলার খরচ ও ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।