
নিরঞ্জন মিত্র (নিরু) (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও উৎসবমূখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে,(১৬ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সূর্যদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, ব্যাক্তি মালিকানাধীন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকাল ৭ টার দিকে শহরের গোয়ালচামটস্থ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদগণের স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন প্রথমে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। এরপরে মুক্তিযুদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সদর উপজেলা প্রশাসন, প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।
এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপি'র মনোনীত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও জেলা বিএনপি ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়ে একটি বিজয় র্যালি করে গোয়ালচামট শহীদ স্মৃতিফলকে
শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা প্রশাসন কতৃক
আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি'র অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন শেষে সকাল ৯ টার দিকে শেখ জামাল স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণকবরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদদের গণকবরে এক মিনিট নিরবতা পালন ও শহীদগণের কবর জিয়ারত করা হয়। সকাল ৯.১০ মিনিটে শেখ জামাল স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা। এ-সময় তার সাথে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে, শহরে বিজয় র্যালি ও আলোচনা সভা পালন করে।
এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে
সকল মসজিদে দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে আলোচনা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আত্মদানকারী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত করা হয়। মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা সহ অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা হয়। এছাড়াও হাসপাতাল, জেলখানা, শান্তিনিবাস, এতিমখানা ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।